ডায়াবিটিসের রোগী এখন ঘরে ঘরে। আর এই একটা রোগের হাত ধরে শরীরে বাসা বাঁধে হাজার অসুখ। হার্টের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, স্নায়ুজনিত সমস্যা... আরও কত কী! তবে ডায়াবিটিসের কারণে যে শ্রবণশক্তির উপরেও প্রভাব পড়তে পারে, এটা অনেকেরই জানা নেই।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টাইপ-২-ডায়াবিটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০-৭০ শতাংশ রোগীর শ্রবণে সমস্যা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবিটিসের সমস্যা থাকলে বৃদ্ধ বয়সে অনেকেই কানে কম শোনেন। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে তা কানের ভিতরের স্নায়ু ও রক্তজালিকাগুলি ক্ষতি করতে শুরু করে। আবার রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে শ্রবণশক্তিতে সাহায্যকারী স্নায়ুগুলির কর্মক্ষমতা কমে যায়, মস্তিষ্কে সঠিক নির্দেশ পাঠাতে পারে না। ফলে শ্রবণশক্তি কমে যায়। এ ক্ষেত্রে শরীরের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে।
সময়ের সঙ্গে ডায়াবিটিস কানের ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলিকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। কক্লিয়ায় সমস্যা শুরু হয়। এমন রোগীদের ক্ষেত্রে উচ্চস্বরযুক্ত এলাকাগুলি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
ডায়াবিটিসের রোগীরা কী ভাবে সাবধান হবেন?
১) রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলেই কানের স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে। প্রতি সপ্তাহে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করানো ভীষণ জরুরি। শর্করার মাত্রা বেশি হলে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতেই হবে। নইলে হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি।
২) ডায়াবেটিক রোগীরা বছরে অন্তত এক বার অবশ্যই কানের পরীক্ষা করাবেন। সে ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা ধরা পড়লে আগে থেকেই চিকিৎসা শুরু করা যাবে।
৩) ডায়াবেটিক রোগীদের খুব বেশি আওয়াজের মধ্যে না থাকাই ভাল। এতে কানের ক্ষতি হতে পারে।