পশ্চিমবঙ্গের মিড-ডে মিল প্রকল্পে আর জায়গা নেই ডিমের! ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার পরেই ছাত্রছাত্রীদের নিরামিষ খাওয়ানো নিয়ে চারদিকে আলোচনার শেষ নেই! কারও দাবি, ডিমের বদলে সয়াবিন খেলে শিশুদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হবে, কেউ আবার বলছেন, বাড়িতে তো ডিম খাচ্ছেই, স্কুলে সয়াবিন খেলে ক্ষতি কি! ডিমের বদলে সয়াবিন খেলে সত্যিই কি শিশুদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হবে?
ডিম প্রাণিজ প্রোটিনের ভাল উৎস, অন্যদিকে সয়াবিন এক প্রকার উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। পুষ্টিবিদ মঞ্জিরা সান্যালের মতে কোনও একক খাবারকে অন্য একটি খাবারের সঙ্গে সে ভাবে তুলনা না করাই ভাল। ডিমে ৯টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডই ভরপুর মাত্রায় থাকে, যা পেশি মেরামত এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। একটি ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ডিমের প্রোটিন আমাদের শরীর খুব দ্রুত ও সহজেই গ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে, সয়াবিনেও সমস্ত প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড মজুত রয়েছে, কিন্তু শরীরে এর শোষণ বা কাজে লাগার হার ডিমের তুলনায় সামান্য কম।
ডিম আর সয়াবিনের পুষ্টিগুণের বিচার কিন্তু শুধু প্রোটিনের উপর নির্ভর করে করলে হবে না। মঞ্জিরা বলেন, ‘‘সয়াবিনে প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবার রয়েছে ভাল মাত্রায়। ফাইবারের দিক থেকে বিচার করলে সয়াবিন কিন্তু ডিমকে অনায়াসেই টেক্কা দেবে। এতে নানা প্রকার খনিজও থাকে। তবে ডিম থেকে যে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়, সয়াবিনে সেটা পাওয়া যায় না! লোহিত রক্তকণিকা গঠন, ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া সয়াবিনের মধ্যে কোলিনের মাত্রা ডিমের তুলনায় অনেকটাই কম। কোলিন একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান যা স্মৃতিশক্তি বৃ্দ্ধি করতে, কোষের গঠন এবং যকৃতের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই এ সব দিক থেকে সয়াবিন ডিমের তুলনায় পুষ্টিগুণে খানিকটা পিছিয়ে।
এমন অনেক শিশুই আছে, যাদের ডিম খেলে অ্যালার্জি হয়। বা যারা নিরামিষভোজী তারা কিন্তু সয়াবিন ডায়েটে রেখেও শরীরে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে পারে। সে ক্ষেত্রে সয়াবিনের সঙ্গে আর কী কী ডায়েটে রাখতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। ডিম না খেয়ে শুধু সয়াবিন খেলে চলবে না, সঙ্গে দুধ, দই, পনিরও খেতে হবে। মঞ্জিরা বলেন, ‘‘যদি শিশুর ডায়েটে সয়াবিন রাখতে হয়, সে ক্ষেত্রে সে যেন সারা দিনে ২০০ মিলিলিটার দুধ, ৫০ থেকে ৭০ গ্রাম দই, ৫-৬টি কাঠবাগাম এবং ১ চা চামচ তিলও খায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তা হলে আর ডিমের প্রয়োজন পড়বে না। শরীরে প্রোটিন আর ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হবে না। আবার ধরুন কোনও শিশু দুপুরে ১০০ গ্রাম সয়াবিন খাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে সঙ্গে ১ কাপ ডাল, ১ কাপ সব্জিও অবশ্যই খেতে হবে। তা হলে জ়িয়াজ়্যান্থিন, ফোলেট, লিউলিনস আয়রনের মতো পুষ্টিগুণের অভাব হবে না শরীরে।’’