সামনে বিস্তীর্ণ নীল জলের সমুদ্র, গুটিকয়েক গাছ ও গাছের গুড়ি, বালি আর বালি, নির্জন দ্বীপে কেবল দু’টি মানুষ। যাঁরা একে অপরের প্রতি ভালবাসার কথা প্রথম বার স্বীকার করলেন সেই দ্বীপে। তার পরই শুরু হল প্রেমের গান। এমনই এক রোম্যান্টিক পরিবেশে নায়ক-নায়িকার রোমান্স। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’-এর কথা কে আর ভুলতে পারেন! কিন্তু সেই রোম্যান্টিক পরিবেশ যে আদপে কী অবস্থা করেছিল শিল্পীদের, তা জানা গেল ২৬ বছর পর।
পর্দায় যতটা মসৃণ, স্বপ্নময় এবং রোম্যান্টিক দেখিয়েছে, আদপে সেই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ততটা আরামদায়ক ছিল না। সম্প্রতি অভিনেত্রী অমীষা পটেল সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে প্রকাশ্যে আনলেন পর্দার পিছনে হৃতিক রোশন এবং তাঁর গল্প। সেই গানের শুটিং করতে গিয়ে নায়ক-নায়িকার ত্বকের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তার জন্য দায়ী নোনা জল, কাদা বালি এবং চড়া রোদ।
গানের শুটিংয়ে নায়ক-নায়িকা ত্বক নিয়ে নাজেহাল। ছবি: সংগৃহীত
অমীষা বলছেন, ‘‘আমরা গানের শুরুতে একদম ফর্সা ছিলাম, কিন্তু শেষের দিকে একেবারে কালো-হলদে রং হয়ে যায় ত্বকের। কারণ, দিনের পর দিন ক়ড়া রোদে ১০-১২ ঘণ্টা শুটিং করতে করতে দু’জনেরই গায়ের রং অনেকটা বদলে যায়। দীর্ঘ ক্ষণ সূর্যের তলায় থাকার ফলে ত্বকে ট্যান পড়ে যায়।’’ তা ছাড়া কাদা, বালি, নুনের কারণে অ্যালার্জিও শুরু হয় ত্বকে। নায়িকার কথায়, ‘‘দেখে মনে হচ্ছিল খুবই সুন্দর, অথচ অবস্থা খুবই খারাপ ছিল জায়গাটার।’’
সত্যিই তো, সমুদ্রসৈকত থেকে ফেরার পরই ত্বকে কালচে ছোপ পড়ে। সঙ্গে কারও কারও অ্যালার্জিও হতে পারে। আর তার জন্য প্রয়োজন সতর্কতা। এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি ছবির নেপথ্য কাহিনি নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও মনে করিয়ে দেয়। সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গেলে অনেকেই সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হন। দীর্ঘ ক্ষণ রোদে থাকলে ত্বকে ট্যান, রোদেপোড়া, লালচে ভাব, চুলকানি, র্যাশ এমনকি রং গাঢ় হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সমুদ্রসৈকতে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির পাশাপাশি ত্বককে একসঙ্গে লড়াই করতে হয় গরম, আর্দ্রতা, বাতাস, নোনাজল এবং বালির সঙ্গে। এই সব উপাদান একত্রে ত্বকের সুরক্ষা স্তরকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, জ্বালা হতে পারে বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে সমুদ্রসৈকতে গিয়ে?
১. বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। ব্রড স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন, যেটির এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি। পাশাপাশি নন-কমেডোজেনিক হতে হবে। নয়তো ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে।
২. এক বার নয়, প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর সানস্ক্রিন মাখতে হবে। বিশেষ করে যদি ঘাম হয় বা সমুদ্রের জলে নামেন।
৩. ত্বকের সুরক্ষায় আর্দ্রতার প্রয়োজন। ত্বকে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। তার জন্য এক দিকে যেমন পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে, অন্য দিকে ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে থাকতে হবে।
কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে সমুদ্রসৈকতে গিয়ে? ছবি: সংগৃহীত
৪. টুপি, রোদচশমা, হাতাওয়ালা জামা, ছাতা ইত্যাদি বয়ে নিয়ে যেতে হবে সৈকতে। নয়তো রোদ সরাসরি ত্বক স্পর্শ করে ফেলবে। আর বাড়বে ট্যান।
৫. এসপিএফ-যুক্ত লিপ বাম মাখতে হবে ঠোঁটে। ওষ্ঠাধরের ত্বক খুব পাতলা হয় বলে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্তও হয়।
৬. সমুদ্রস্নানের পরে দ্রুত শরীর থেকে নোনাজল ও বালি পরিষ্কার করা দরকার। যাতে অ্যালার্জি না হতে পারে।
৭. সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টের মধ্যে দীর্ঘ ক্ষণ সরাসরি রোদে না থাকাই ভাল।
৮. রোদে থাকার পর ত্বকে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করুন, যা মুখে শীতল অনুভূতি এনে দেবে। অ্যালো ভেরা বা প্যানথেনলের মতো সামগ্রী ব্যবহার করে প্রদাহ কমাতে পারেন।
৯. কেবল নামীদামি নয়, ত্বকের জন্য উপকারী, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ক্রিম, সিরাম ইত্যাদি মাখতে হবে এ সময়ে। যাতে ত্বক দ্রুত নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে।