চোখ কাঁপা মানেই অশুভ কোনও লক্ষণ, এমন ভেবে নেন অনেকেই। বাঁ চোখ কাঁপলে শুভ, আর ডান চোখ কাঁপলে কতটা অর্থহানি হতে পারে, সে সব ধারণার বাছবিছার না করে বরং খেয়াল করুন, এতে স্বাস্থ্যহানি ঠিক কতটা হবে। চোখ কাঁপা মানে হল চোখের উপরের পাতায় কম্পন, কখনও চোখের নীচের ‘ওয়াটার লাইন’-এও কাঁপুনি হতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে ‘অকুলার মায়োকেমিয়া’।
এই সমস্যার কোনও একটি কারণ নেই। শারীরিক, মানসিক, স্নায়বিক— এই তিনটির যে কোনও একটি কারণে চোখের পাতা কাঁপতে পারে। তবে চিকিৎসকেদের মতে, চোখের পাতা কাঁপার মূল কারণ ক্লান্তি। এ ছাড়াও মানসিক উদ্বেগ, ঘুম কম হওয়া, ঘন ঘন ধূমপান, অতিরিক্ত কফি খাওয়া, দীর্ঘ ক্ষণ কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা ইত্যাদি কারণেও চোখের পাতা কাঁপতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অকুলার মায়োকেমিয়ার অন্যতম বড় কারণ হল মানসিক চাপ। মানসিক চাপ যখন অত্যধিক বেড়ে যায় তখন শরীর বিভিন্ন উপসর্গ দিয়ে আগাম সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে, চোখ ফরফর করা তারই মধ্যে একটা। অর্থাৎ চোখ কাঁপা মানসিক চাপের একটি শারীরিক প্রকাশ। শরীরে চাপ বাড়তে থাকলে, তা পেশির খিঁচুনির মতো ছোট, অনৈচ্ছিক সংকেতের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেহেতু মানসিক চাপ জীবনযাত্রাজনিত রোগের পূর্বসূরি, তাই এটিকে উপেক্ষা করা মোটেই ভাল কাজ নয়।
যখন কোনও ব্যক্তির মানসিক চাপ বাড়ে, তখন শরীর থেকে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি কেবল হৃদ্স্পন্দন এবং রক্তচাপই বাড়ায় না, বরং স্নায়ুগুলিকেও সংবেদনশীল করে তোলে, যার ফলে চোখের পেশিসহ অন্যান্য পেশিগুলোও অনৈচ্ছিকভাবে সংকুচিত হয়।
কী ভাবে পাবেন প্রতিকার:
১) পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোন।
২) উদ্বেগমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।
৩) অতিরিক্ত চা, কফি পান করা বন্ধ করুন।
৪) ঘন ঘন ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।
৫) শরীর এবং মনকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন।