কিটো ডায়েটের কথা শোনা যায় বহু তারকার মুখেই, ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও যে তার জনপ্রিয়তা ভালই হবে, সেটাই স্বাভাবিক। অনেকেই ছোটেন কিটো ডায়েটের পিছনে, তবে এই ডায়েটে আশাহত হওয়ার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। অনেকেই বলেন কিটো ডায়েটে লাভ হচ্ছে না তাঁদের, হয় ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে যাচ্ছে বা কমে যাচ্ছে। এর কারণ কিটো ডায়েট ঠিক মতো অনুসরণ করতে না পারা। সচেতনতার অভাবই মূলত এর কারণ।
এই ডায়েটে শর্করা-পূর্ণ সব্জি, ফল, দানাশস্যের বদলে বেশি পরিমাণে নিতে হয় ফ্যাট জাতীয় খাবার, যার ফলে দেহে শুরু হয়ে যায় কিটোসিস। এই প্রক্রিয়ায় কার্বোহাইড্রেটের বদলে ফ্যাট গলে। ফলস্বরূপ শরীর ফ্যাট-মুক্ত হয় তাড়াতাড়ি। কিন্তু এই ডায়েটে যেহেতু বিভিন্ন উপাদানের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর পরিমাপও খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই এক চুল এ দিক-ও দিক হয়ে গেলেও হতে পারে গন্ডগোল। যেমন, প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিটোসিস। তবে কিছু কিছু বিষয়ের দিকে নজর দিলে সহজেই এড়াতে পারেন এই ভুলগুলি। দেখে নিন সেগুলি কী—
১) শুরুতেই, বা এক দিনেই ঝপ করে নামিয়ে ফেলবেন না কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ। বাঙালি ভাতের উপর বেশি নির্ভরশীল, তাই প্রতিদিন গড়ে আমরা অনেকটাই কার্বোহাইড্রেট নিই। প্রাথমিক ভাবে ২০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট দিয়ে এই ডায়েট শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কিন্তু এক দিনেই এই পরিবর্তন শরীরের উপর ভাল প্রভাব ফেলবে না। ধীরে ধীরে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমান, দেহকে এই বদলের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার সময় দিন।
৩) প্রায় সব সব্জিতেই কম বেশি কার্বোহাইড্রেট থাকে, তাই সব্জি বাতিল করা এই ডায়েটে খুব জরুরি। আবার কিটো ডায়েটের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসেবে কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে সব্জি আবার এড়ালেও চলে না, কারণ সব্জিতে থাকে তন্তু (ফাইবার)। অর্থাৎ সব্জির পরিমাণ নিয়ে থাকতে হবে খুবই সতর্ক। যে সব সব্জিগুলি খেতে পারেন তার মধ্যে আছে টম্যাটো, ব্রকোলি, শশা, পালং শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি।
৪) কিটো ডায়েটের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জল খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ কমে গেলে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে জল ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। পর্যাপ্ত জলের অভাবে প্রায়শই দুর্বলতা, মাথাব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই নির্ধারিত দিন পর্যন্ত এই ডায়েট করা সম্ভব হয় না। কিটো শুরু করলে শরীরে নুনের মাত্রা কমে যায়, তাই শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় নুন যাচ্ছে কি না সে দিকেও নজর রাখতে হবে। নুন কম খেলে ভোগান্তি বাড়বে।
৫) কিটো ডায়েট মানে অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া নয়। যদিও এ ক্ষেত্রে ফ্যাটই শক্তির প্রধান উৎস হয়ে ওঠে, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তাই ফ্যাটও খেতে হবে পরিমিত মাত্রায়, পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে।