বুকে ব্যথা মানেই অনেকে ভেবে নেন হৃদ্রোগ। অথবা পরিবারে কারও হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস থাকলে, সে নিয়েও আতঙ্ক থাকে। হয়তো আপনার হার্ট একেবারে সু্স্থ ও সচল রয়েছে, কোনও অসুখবিসুখ বাসা বাঁধেনি, তা-ও ভয় যাচ্ছে না। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হার্টে রোগ হলে যেমন তার কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায়, তেমনই হার্ট সুস্থ থাকলেও তা কিছু বাহ্যিক লক্ষণে বোঝা যায়। হার্টের সুস্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয় শরীরই। সেগুলি বোঝার উপায় কী?
পালস রেট স্থিতিশীল
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দনের হার স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মিনিটে ৭২ বার। তবে ব্যক্তিভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে। বিশ্রামের সময়ে স্বাভাবিক ভাবেই হৃৎস্পন্দনের হার কম থাকে। কারণ শরীর নড়াচড়া কম হয়। বিশ্রাম নেওয়ার সময় একজন সুস্থ, পূর্ণবয়স্ক মানুষের হৃৎস্পন্দনের হার হওয়া উচিত প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ৮০ বার। যদি তেমনই থাকে, তা হলে বুঝতে হবে হার্ট ভাল আছে। যদি তা ১০০ ছাড়িয়ে যায়, তা হলে বুঝতে হবে শরীরে কোনও সমস্যা হচ্ছে। হৃৎস্পন্দনের হার খুব কমে যাওয়া অথবা খুব বেড়ে যাওয়া বড় অসুখের লক্ষণ হতেই পারে।
আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক রক্তচাপ
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০। যদি তা ১৪০/৯০ পর্যন্ত বা তার বেশি উঠে যায়, তা হলে বুঝতে হবে রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছে। আবার রক্তচাপ যদি ১১০/৬০-এর নীচে নেমে যায়, তা হলে বুঝতে হবে রক্তচাপ কম। রক্তচাপ মাঝেমধ্যেই মেপে দেখবেন যদি তা স্বাভাবিকই থাকে, ত হলে বুঝতে হবে রক্তবাহী ধমনীগুলি নমনীয় ও সুস্থ রয়েছে। ব্লকেজ হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই।
গভীর ও নীরবচ্ছিন্ন ঘুম
স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হার্টের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। যদি রাতে ভাল ঘুম হয় এবং সকালে শরীর সতেজ ও চনমনে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে হৃদ্যন্ত্র একেবারে সঠিক ভাবে কাজ করছে। কিন্তু ঘুমের মধ্যে ঘাম হলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা বারে বারে ঘুম ভেঙে গিয়ে বুকে চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হলে সাবধান হতে হবে।
শ্বাসের গতি স্বাভাবিক
ঘুমের মধ্যে, হাঁটাচলার সময়ে বা দৌড়নো অথবা সিঁড়ি ভাঙার সময়ে যদি বুক ধড়ফড় তেমন ভাবে না হয়, শ্বাসকষ্টের সমস্যা না থাকে, তা হলে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। হাঁটা বা দৌড়নোর সময়ে শ্বাসের গতি বাড়ে ঠিকই, তবে হার্টের রোগ থাকলে শ্বাসকষ্ট ভীষণ ভাবে শুরু হবে। অল্পেই হাঁফ ধরে যাবে।
ক্লান্তি কম
রোজের কাজ, অফিস বা সংসার সামলেও যদি দেখেন শরীর চনমনে আছে, অতিরিক্ত ক্লান্তি নেই বা শরীর ঝিমিয়ে পড়ছে না, তা হলে বুঝতে হবে হার্ট তো সচল রয়েছেই, শরীরও সুস্থ আছে। রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন সঠিক ভাবে প্রতিটি কোষে পৌঁছলে, ঝিমুনি ও ক্লান্তি কম হবে। শরীর সতেজ থাকবে।