বয়সজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি ক্ষীণ হয়ে যায় স্বাভাবিক নিয়মেই, কিন্তু এখন কমবয়সিদের মধ্যেও বাড়ছে কানে কম শোনার সমস্যা। যে হারে শব্দদূষণ বাড়ছে, তাতে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এ ছাড়াও রোজের কিছু অভ্যাসও শ্রবণশক্তির ক্ষতি করছে। জেনে নিন, কী কী কারণে শ্রবণশক্তি কমতে পারে।
১) কানে বেশি খোঁচাখুঁচি করলে তার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে, অনেকেরই এই বদোভ্যাস আছে। কটন বাড তো বটেই, চুলের ক্লিপ, সেফটিপিন, কাঠি দিয়ে কান পরিষ্কার করেন তাঁরা। এই অভ্যাসের কারণে কানের পর্দা ফুটো হয়ে যেতে পারে। শরীরের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুদায়িত্ব পালন করে কান। কাজেই, কানের অন্দরমহল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার গুরুতর প্রভাব পড়বে শরীরেও। কানে তেল দেওয়া ভাল, অনেকেই তা বিশ্বাস করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসের ফলে শ্রবণযন্ত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২) মাম্পস, হাম, টাইফয়েডের মতো রোগ হলে, তার পরে কানের সমস্যা হতে পারে। কানে সংক্রমণ হলে, জল জমে থাকলে অথবা ভিতরে পুঁজ জমলেও কম শোনার সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।
৩) কান ভাল রাখতে গেলে সব চেয়ে আগে যা করতে হবে তা হল পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। নিজের ব্যবহার করা ইয়ার প্লাগ, হেডফোন অন্য কাউকে ব্যবহার করতে না দেওয়াই ভাল। উল্টো দিক থেকে আবার অন্যের ব্যবহার করা কোনও জিনিসও কিন্তু ব্যবহার করা যাবে না।
৪) স্নান করতে গিয়ে অনেক সময়ে অসাবধানে কানের মধ্যে জল ঢুকে যেতেই পারে। এমনটা হলে অবহেলা করবেন না। স্নান শেষে তৎক্ষণাৎ কান থেকে জল বার করতে না পারলে কানের ভিতর জল জমে সংক্রমণ হতে পারে।
৫) সারা ক্ষণ কানে হেডফোন দিয়ে গান শোনার অভ্যাসও কিন্তু কানের ক্ষতি করে। এমনিতে যে কোনও আওয়াজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬৪ ডেসিবেলের মাত্রা বেঁধে দেওয়া থাকলেও হেডফোনের তেমন কোনও বিধি-নিষেধ নেই। কিন্তু তীক্ষ্ম যে কোনও আওয়াজই যে কানের ক্ষতি করে, তেমনটাই মত চিকিৎসকেদের।