কিডনি বা বৃক্কের কাজ কী? শরীরের দূষিত পদার্থ বার করে দেওয়া। সারা দিন এই কাজ করে শরীরের সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফেটের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা বৃক্কের দায়িত্ব। কিডনির সমস্যা থাকলে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে শরীরের পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বৃক্কের যত্ন নিতে হবে। আবার শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম তৈরি হলেও মুশকিল। তখন বৃক্কের উপর চাপ বাড়তে পারে। সব দিক সামলে রাখতে হলে কয়েক ধরনের সব্জিও এড়িয়ে চলা জরুরি।
আলু: আলুতে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম আলু খেলে শরীরে প্রায় ৪২১ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম যায়। তাই কিডনির রোগীদের রোজের ডায়েটে এই সব্জিটি না রাখাই ভাল।
রাঙাআলু: শুক্তো হোক বা স্বাস্থ্যকর চাট— বাড়িতে রাঙাআলু থাকলে রান্নার স্বাদ নিয়ে কোনও চিন্তা থাকে না। তবে এই সব্জিতে আলুর থেকেও বেশি মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম রাঙাআলুতে প্রায় ৩৫৪ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। তাই কিডনির রোগীদের রাঙাআলু খাওয়ার আগে সতর্ক থাকতে হবে।
শাক: বাঙালি বাড়িতে রোজ শাকপাতা রান্না হবে সেটাই স্বাভাবিক। কোনও দিন পালংশাক, কোনও দিন নটেশাক, কোনও দিন আবার লালশাক। তবে কিডনির রোগীদের রোজের ডায়েটে শাক রাখা চলবে না। কারণ শাকেও পটাশিয়ামের মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে।
ব্রকোলি: স্বাস্থ্য-সচেতন মানুষের রোজের ডায়েটে এখন এই সব্জিটি ঢুকে পড়েছে। কখনও স্যুপ, কখনও আবার ব্রকোলি ভাজা দিয়েই দুপুরের কিংবা রাতের খাবার সারেন কেউ কেউ। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে ব্রকোলি খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। ১০০ গ্রাম ব্রকোলিতে প্রায় ৩১৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।
মাশরুম: নিরামিষের দিনে অনেকেই এই সব্জি খেতে পছন্দ করেন। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে মাশরুম না খাওয়াই ভাল। ১০০ গ্রাম মাশরুমে প্রায় ৩০০-৩৬০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। কিডনির রোগীদের এই সব্জিটিও এড়িয়ে চলতে হবে।