সাধারণত আমাদের চুলের প্যাটার্ন চার রকমের হয়, স্ট্রেট, ওয়েভি, কার্লি আর কয়েলি। জিনগত কারণেই চুলের ধরন নির্ভর করে। আর এই চুলের ধরন ঠিক মতো বজায় রাখতে ডিফিউজ়ার সাহায্য করে। স্ট্রেট হেয়ারে হেয়ার ড্রায়ার দিয়েই কাজ হয়ে যায়। কিন্তু কার্লি বা ওয়েভি চুলের ধরন, টেক্সচার বজায় রাখতে ডিফিউজ়ার বেশি কার্যকর। ডিফিউজ়ারের নজ়েল কিনে নিয়েও লাগিয়ে নিতে পারেন ড্রায়ারে।
ডিফিউজ়ার কেন ভাল?
- রূপবিশেষজ্ঞ মৌসুমী মিত্র বললেন, “হেয়ার ড্রায়ার চুলের নির্দিষ্ট অংশে তীব্র ভাবে গরম হাওয়া দেয়। সেখানে ডিফিউজ়ার সমান ভাবে অনেকটা চুল একসঙ্গে হাওয়া দিয়ে শুকোতে সাহায্য করে। ফলে চুলের কার্ল নষ্ট হয় না। চুলের কার্ল বজায় রাখতে অনেক সময়ে কার্ল ডিফাইনিং সেরামও ব্যবহার করেন অনেকে।”
- ড্রায়ারে চুল শুকোতে তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে চুলের গোড়ায় তাপ লাগে, যা থেকে চুল শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ডিফিউজ়ার মূলত চুলের মধ্যে হাওয়া খেলাতে সাহায্য করে। ফলে চুলের ক্ষতি কম করে। তাই নিয়মিত ব্যবহার করতে হলে ডিফিউজ়ার ব্যবহার করাই ভাল বলে জানালেন মৌসুমী।
- ড্রায়ারে তাড়াতাড়ি চুল শুকিয়ে গেলেও এর ভেলোসিটি ও তাপের মাত্রা বেশি হওয়ায় তা চুলের পক্ষে ক্ষতিকর। সেখানে ডিফিউজ়ারের হাওয়া অনেক আরামদায়ক। তবে এতে সময় লাগলেও চুলের স্বাভাবিক ঘনত্ব ও স্বাস্থ্য বজায় রাখে।
- কার্লি, ওয়েভি হোক বা স্ট্রেট... অনেকের চুলেই খুব জট পড়ে। ডিফিউজ়ারের হাওয়া যেহেতু চুলের মধ্যে সমান ভাবে ছড়িয়ে যায়, তাই চুল জটমুক্ত রাখে। ভিজে চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়ালে বেশি চুল পড়ে। তার চেয়ে ডিফিউজ়ার দিয়ে শুকিয়ে নিলে চুল পড়বেও না আবার জটমুক্ত ও প্রাণবন্ত থাকবে।
- “অনেকের চুল পাতলা বলে তার গোছ থাকে না, বাউন্সি দেখায় না। এ ক্ষেত্রেও কিন্তু ডিফিউজ়ার সহায়ক। ডিফিউজ়ারে যেহেতু হাওয়াটা পুরো চুলে সুন্দর খেলে, তাই চুলের ভলিউম বাড়ে ও বাউন্সি হয়,” বলে জানালেন মৌসুমী মিত্র।
ডিফিউজ়ার ব্যবহার করার নিয়ম
- সাধারণত ভিজে চুলেই হেয়ার ডিফিউজ়ার ব্যবহার করা হয়।
- প্রথমে শাওয়ারে দাঁড়িয়ে ভিজে চুল কাঠের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিতে হবে। এতে চুল জটমুক্ত হয় সহজে।
- এ বার হালকা করে তোয়ালেতে চুলের অতিরিক্ত জল মুছে নিন।
হেয়ার ড্রায়ার, ডিফিউজ়ার, ব্লো ড্রায়ার... যা-ই ব্যবহার করুন, তার আগে হিট প্রোটেকশন স্প্রে লাগিয়ে নিতে হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)