Advertisement
E-Paper

হৃদ্‌যন্ত্র ভাল আছে তো? বছরে একটি পরীক্ষা করিয়ে রাখলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সময়ের অভাবে অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, অত্যধিক ব্যস্ততা অথবা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। এর সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি, বাইরের তেল-মশলাদার খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাসেও রাশ টানতে হবে। এ সবের পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ ঠেকাতে আরও একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা ভীষণ জরুরি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৯
১টি পরীক্ষাই ধরে ফেলতে পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আছে কি না।

১টি পরীক্ষাই ধরে ফেলতে পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আছে কি না। ছবি: সংগৃহীত।

জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন না হলে যে কোনও বয়সেই থাবা বসাতে পারে হৃদ্‌রোগ। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবিটিসের সমস্যা থাকলে এই বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সময়ের অভাবে অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, অত্যধিক ব্যস্ততা অথবা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। এর সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি, বাইরের তেল-মশলাদার খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাসেও রাশ টানতে হবে। এ সবের পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ ঠেকাতে আরও একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা ভীষণ জরুরি। তা হল শরীরে লিপিড প্রোফাইলের মাত্রা।

হার্টের সমস্যা নিয়ে যদি কোনও রোগী চিকিৎসকের কাছে যান, তখন সবার প্রথমেই তিনি রোগীকে প্রশ্ন করেন লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করিয়েছেন কি না। ভারতে দিন দিন হার্টের রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। আর চিকিৎসকদের মন্তব্য, ৮০ শতাংশ হার্টের রোগীর রিপোর্টে লিপিড প্রোফাইলের মাত্রা স্বাভাবিক আসে না।

দিল্লি নিবাসী চিকিৎসক এস রামাকৃষ্ণন বলেন, প্রায় ৫০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে লিপিড প্রোফাইলের অস্বাভাবিক মাত্রার যোগ আছে। হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর আক্রান্ত রোগীদের রিপোর্টে প্রায়শই অস্বাভাবিক লিপিড প্রোফাইল লক্ষ করা যায়। চিকিৎসকের মতে, বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে তাঁরা আগে কখনও লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করাননি। অনেকে এমনও আছেন, যাঁরা এই পরীক্ষার কথা কখনও শোনেননি।

লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষার মাধ্যমে ঠিক কী কী পরীক্ষা করা হয়?

লিপিড প্রোফাইলের মাধ্যমে সাধারণত রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা (এলডিএল), ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা (এইচডিএল) আর ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।

যদি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ১০০ এর উপরে থাকে, তা হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এইচডিএল বা ভাল কোলেস্টেরল সাধারণত ৪০ এর উপরে হওয়া উচিত। নিয়ম করে শরীরচর্চা আর সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করলে এইচডিএলের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব। তবে দুর্ভাগ্যবশত, ভাল কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য কোনও ওষুধ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ২০০ এর নীচে থাকা উচিত। ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধির নেপথ্যে থাকে সাধারণত খারাপ খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি খাওয়া, বেশি করে তৈলাক্ত খাবার খাওয়া, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং নির্ধারিত ওষুধের মাধ্যমে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

অনেক সময় আবার চিকিৎসকেরা এক্সটেনডেড লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানোর কথাও বলেন। সে ক্ষেত্রে বাকি পরীক্ষাগুলির পাশপাশি লাইপোপ্রোটিনের (খারাপ কোলেস্টেরলের এক ধরন) মাত্রাও পরীক্ষা করা হয়। এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া মানেই হৃদ‌্‌রোগের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাওয়া।

সাধারণত ২০ থেকে ২৫ বছর পার করলেই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানোর কথা বলেন চিকিৎসকেরা। অন্য দিকে বয়স ৪০ পেরোলেই বছরে অন্তত এক বার এই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

Heart Attack
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy