চিনি বাদ দিয়েছেন জীবন থেকে। মিষ্টি খাচ্ছেন না। চায়েও চিনি বাদ। বদলে গ্রিন টিয়ে মধু মিশিয়ে খাচ্ছেন। কারণ, মধু প্রাকৃতিক মিষ্টি। তাতে ক্ষতির চেয়ে উপকার বেশি। কথাটা ভুলও নয়। কিন্তু উপকারী ভেবে যে মধু খাচ্ছেন সেটি ঠিক মধু তো। নাকি চিনি এড়াচ্ছেন ভেবে আদতে চিনির রসই খাচ্ছেন মধু ভেবে?
বাজারে খাঁটি মধু পাওয়া যায় না তা নয়। তবে ভেজাল মেশানো মধু রয়েছে বিস্তর। সেই ভিড় এড়িয়ে খাঁটি মধু চিনবেন কী ভাবে। বাড়িতে সহজ কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে মধুর গুণগত মান যাচাই করা যায়।
১. জলের পরীক্ষা
একটি গ্লাসে সাধারণ জল নিন। এবার এক চামচ মধু সেই জলের মধ্যে দিয়ে দিন।
খাঁটি মধু: জলের নিচে সরাসরি ছোট দলা বা পিণ্ডের মতো থিতিয়ে পড়বে এবং নিজে থেকে সহজে জলের সঙ্গে মিশবে না।
ভেজাল মেশানো মধু: জলের সংস্পর্শে আসা মাত্রই চারদিকে ছড়িয়ে যেতে শুরু করবে এবং খুব দ্রুত জলে মিশে যাবে।
২. আঙুলের পরীক্ষা
বুড়ো আঙুলে এক ফোঁটা মধু নিন।
খাঁটি মধু: আঙুলে মধু স্থির অবস্থায় থাকবে, সহজে গড়িয়ে পড়বে না বা ছড়িয়ে যাবে না।
ভেজাল মেশানো মধু: চিনি বা জলীয় অংশ বেশি থাকায় এটি আঙুলের চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বা গড়িয়ে যাবে।
৩. আগুনের পরীক্ষা
একটি দেশলাই কাঠি মধুর মধ্যে চুবিয়ে নিন এবং এরপর কাঠিটি জ্বালানোর চেষ্টা করুন।
খাঁটি মধু: কাঠিটি অনায়াসেই জ্বলে উঠবে এবং মধুটুকু পুড়তে শুরু করবে।
ভেজাল মেশানো মধু: মধুতে জলীয় অংশ বা ভেজাল থাকলে কাঠিটি ভিজিয়ে যাবে এবং সহজে জ্বলবে না বা চড়চড় শব্দ করবে।
খাঁটি মধুর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য
গন্ধ: মৌমাছির চাক থেকে সংগ্রহ করা আসল মধুর একটি মৃদু প্রাকৃতিক সুগন্ধ থাকে। অনেকটা ফুলের মতো গন্ধ পাওয়া যায়। কৃত্রিম মধুতে কোনো সুগন্ধ থাকে না বা কেবল চিনির গন্ধ পাওয়া যায়।
তলানি বা দানা: খাঁটি মধু দীর্ঘক্ষণ ফ্রিজে বা ঠাণ্ডায় রাখলে দানা বাঁধতে পারে বা নিচের দিকে জমে যেতে পারে। এটি মধুর স্বাভাবিক ধর্ম।
হালকা ফেনা:অনেক সময় খাঁটি মধু সরাসরি বোতলে ঢেলে মুখ বন্ধ করলে ওপরে হালকা সাদা ফেনাও দেখা যেতে পারে। সেটিও খাঁটি মধুর লক্ষণ।