গরমে পেট হালকা রাখা আর শরীর ঠান্ডা রাখা, এই দু’টিই সবচেয়ে জরুরি। আর এই সময়েই কাজে আসতে পারে একেবারে ফেলে দেওয়া উপকরণ। সব্জির খোসা। পুষ্টিবিদদের মতে, এই খোসাগুলিতেই থাকে প্রচুর ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আর হজমে সাহায্যকারী উপাদান। তাই এগুলি দিয়ে বানানো আচার শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যের দিক থেকেও বেশ উপকারী।
খোসা দিয়ে বানিয়ে নিন সুস্বাদু আচার। ছবি: সংগৃহীত
সব্জির খোসা দিয়ে কী কী আচার বানানো যেতে পারে?
লাউয়ের খোসার আচার: লাউয়ের খোসার আচার খুবই হালকা আর পেটের জন্য আরামদায়ক। তেলে জিরে আর লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে খোসাবাটা নাড়াচাড়া করতে হবে। ঠান্ডা হয়ে গেলে দই, আদা, রসুন ও আমচুর দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে। ডাল-ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন।
শসার খোসার আচার: শসার খোসার আচার সবচেয়ে বেশি সতেজ। পুদিনা, দই আর রোস্ট করা জিরে দিয়ে মিহি করে পিষে নিতে হবে শসার খোসাগুলি। নুন আর গোলমরিচ মিশিয়ে দিলেই আচার প্রস্তুত। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং শরীরে জলের অভাব পূরণে সাহায্য করে।
কাঁচকলার খোসার আচার: কাঁচকলার খোসাগুলি একটু জলে ভাপিয়ে নিতে পারেন বা অল্প ভেজে নিতে পারেন। তার পর জিরে, সর্ষে ও কারিপাতার ফোড়ন দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে। ঠান্ডা হওয়ার পর আদা, রসুন, লেবুর রস, নুন আর আমচুর দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এটি পুষ্টিতে ভরপুর এবং শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
আলুর খোসার আচার: লঙ্কা ও জিরে দিয়ে তেলে আলুর খোসাগুলি হালকা ভেজে নিতে হবে। তার পর রসুন, তেঁতুল, নুন ও গোলমরিচ দিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে খেয়ে নিতে পারেন। টক-মশলাদার স্বাদের এই আচার খাওয়ার পাতে এক পাশে থাকলে খাবারে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
কাঁচা আমের খোসার আচার: টক আচার বানাতে কাঁচা আমের খোসার জুড়ি মেলা ভার। পুদিনা, ধনে, গুড়, জিরে আর মৌরি ব্যবহার করে ব্লেন্ড করে নিন। তার পর তাতে নুন, গোলমরিচ ও লেবুর রস মিশিয়ে প্রস্তুত করুন। শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি স্বাদেও বেশ ঝাঁঝালো ও টক-মিষ্টি।
আরও পড়ুন:
তবে একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই সব খোসা ব্যবহার করার আগে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে, যাতে ময়লা বা রাসায়নিক না থাকে। ছোট্ট এই অভ্যাসই কমাতে পারে অপচয়, আর বাড়াতে পারে পুষ্টি।