Advertisement
E-Paper

ভাইরাল জ্বর আর টাইফয়েড এক নয়, রোগের প্রকোপ বাড়ে গরম পড়ার আগেই, সতর্ক থাকার উপায় কী?

শীতের শেষ ও গরম পড়ার আগেই টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ে। সাধারণ জ্বর ও টাইফয়েডের মধ্য পার্থক্য আছে। লক্ষণ চিনে সতর্ক হতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১০
How to protect your family from Typhoid fever, what are the symptoms

টাইফয়েড হয়েছে কি না বুঝবেন কী ভাবে? ফাইল চিত্র।

শীতের বিদায়লগ্নে ও বসন্তের শুরুতে যে রোগগুলির প্রকোপ বাড়ে, তার মধ্য়েই একটি টাইফয়েড। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে কিন্তু পার্থক্য আছে। টাইফয়েড ভাইরাসের কারণে হয় না, হয় ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে। তাই ঘন ঘন জ্বর, পেটের সমস্যা হতে দেখলে ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। মরসুম বদলের এই সময়ে দূষিতজল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকেই এই সংক্রমণ বেশি ছড়ায়। শিশু ও বয়স্কেরা সহজেই আক্রান্ত হয়। তাই রোগের লক্ষণ চিনে রাখা জরুরি।

সাধারণ জ্বরের সঙ্গে টাইফয়েডের পার্থক্য কোথায়?

টাইফয়েডের জন্য দায়ী সালমোনেল্লা টাইফি ব্যাক্টেরিয়া। সংক্রামক রোগ বিষয়ক চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানিয়েছেন, সালমোনেল্লা ব্যাক্টেরিয়া ক্রমেই তার রূপ বদলাচ্ছে। জিনগত বদলের কারণে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। এর নতুন নতুন উপরূপও তৈরি হয়েছে। চিন্তার কারণ আরও রয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, টাইফয়েড সারানোর জন্য যে সব ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক এত দিন দেওয়া হত, সেগুলি তাদের কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা জন্ম দিচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্সের, আর সে কারণেই ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে না।

টাইফয়েড হলে শুধু জ্বর হবে না, সেই সঙ্গে পেশিতে টান ধরা, খিঁচুনিও দেখা দিতে পারে। ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মতো জ্বর উঠতে পারে। সাধারণত বিকেল বা রাতের দিকেই জ্বর ঘুরে ঘুরে আসবে। পেটের সমস্যা সারতে চাইবে না। কিছু খেলেই বমি হবে। ডায়েরিয়া মারাত্মক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। আর যে সমস্যাটি দেখা দেবে, তা হল ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা। ছোটদের ক্ষেত্রে জলশূন্যতা বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

কী ভাবে সতর্ক থাকবেন?

১) দূষিত জল, বাসি খাবার, রাস্তায় বিক্রি হওয়া অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকেই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ বেশি হয়। বাড়িতেও যদি বাসি খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকে, তা হলেও রোগ হতে পারে। তাই এই সময়টাতে টাটকা ও ঘরে তৈরি সহজপাচ্য খাবারই খেতে হবে।

২) জল ফুটিয়ে খেলে ভাল। রাস্তায় বিক্রি হওয়া লস্যি, শরবত বা নরম পানীয় না খাওয়াই ভাল।

৩) বাড়ির শৌচাগার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাইরের শৌচাগার ব্যবহার করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

৪) অনেক সময়ে জন্ডিসের লক্ষণও দেখা দেয়। যদি দেখেন, টানা সাত দিনেও জ্বর কমছে না, পেটখারাপের ওষুধ খেয়েও কাজ হচ্ছে না, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

টাইফয়েড থেকে সেরে উঠতে সুষম ও সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে মাসখানেক। বাঁধাকপি, ফুলকপি জাতীয় সব্জি এই সময়ে না খাওয়াই ভাল। হালকা খিচুড়ি, চিকেনের স্ট্যু বা সব্জি দিয়ে স্যুপ খেলে ভাল। টক দই খেলেও পেট ভাল থাকবে।

Typhoid Bacterial Diseases
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy