বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে। কিন্তু সময়মতো সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় না অনেক ক্ষেত্রে। বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলের প্রয়াণ সেই বিষয়টিকেই আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ৯২ বছর বয়সে তাঁর বুকে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল, যা চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণদের ক্ষেত্রে খুব সাধারণ হলেও অবহেলা করলে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।
বুকে সংক্রমণ আসলে শ্বাসনালির সমস্যা, যা ফুসফুসে প্রভাব ফেলে। বয়স বেশি হলে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় এই ধরনের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ কাশি বা ঠান্ডা থেকেও বড় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রবীণদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল, রোগের লক্ষণগুলি শুরুতে কম থাকে। যেমন সামান্য কাশি, দুর্বলতা, শ্বাস নিতে অস্বস্তি বা ক্লান্তি। কিন্তু এই লক্ষণগুলি উপেক্ষা করলে সংক্রমণ দ্রুত ফুসফুসে ছড়িয়ে যেতে পারে। এক বার শরীরে আক্রমণ করলে তখন চিকিৎসা জটিল হয়ে যায় এবং সেরে ওঠা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ব্রঙ্কাইটিস এবং নিউমোনিয়া-সহ সমস্ত রকমের বুকের সংক্রমণই প্রবীণদের ক্ষেত্রে গুরুতর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বয়স্কদের বুকে সংক্রমণ হলে কী ভাবে সতর্ক হবেন? ছবি: সংগৃহীত
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকার পাশাপাশি এই বয়সে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগের মতো কোমর্বিডিটি থাকলে সংক্রমণ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে সাধারণ সংক্রমণ গুরুতর হয়ে যাবে। তাই কয়েকটি লক্ষণ দেখে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া দরকার।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
· ক্লান্তি
· কাশি
· শ্বাসকষ্ট
· বুকে চাপ ব্যথা
· জ্বর জ্বর ভাব
· আচরণের বদল
কোন সময়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন?
· শ্বাস নিতে খুব কষ্ট যদি হয়
· প্রবল জ্বরে ভুগলে
· ঠোঁট এবং নখের ডগা নীলচে হয়ে এলে
· আচরণে বদল এলে এবং চিন্তাভাবনা গুলিয়ে গেলে
· সামগ্রিক ভাবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে
সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব নয় সব সময়ে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করলে ঝুঁকি কমতে পারে।
আরও পড়ুন:
বাড়ির প্রবীণদের কী ভাবে সুস্থ রাখবেন?
· বাড়ির বয়স্কদের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার দিকে নজর দিন
· দূষণ থেকে দূরে রাখুন প্রবীণদের
· তাঁদের শরীরে যেন পুষ্টির জোগান থাকে
· শরীর যেন জলাভাবে না ভোগে
· নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে তাঁদের
বয়স বাড়লে ছোটখাটো অসুস্থতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, পরিষ্কার পরিবেশে থাকা এবং শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলিকেও নজরে রাখা— এই অভ্যাসগুলিই বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।