এক দিনে, থুড়ি অর্ধেক দিনেই মেদ ঝরে রোগ ছিপছিপে হয়ে যাবেন। সম্প্রতি এমনই কৌশল বাতলে দিলেন বলিউ়ড নায়িকা জাহ্নবী কপূর। চারদিকে যখন ডায়েট, জিম, ওষুধপত্রের সাহায্যে রোগা হওয়ার জন্য কসরত করে চলেছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ, তেমনই এক সময়ে মেদ ঝরানোর মজার পন্থা বাতলালেন শ্রীদেবীর বড়কন্যা।
সম্প্রতি জাহ্নবী তেলুগু ছবি ‘পেড্ডি’র প্রচারে মঞ্চে উঠে বললেন, ‘‘আমি এক বার শুনেছিলাম, ওজন কমানোর সেরা পন্থা হল, রামচরণ স্যরের সঙ্গে একটি নাচের দৃশ্যে অভিনয় করা। আপনি অর্ধেক দিনে রোগা ছিপছিপে হয়ে যাবেন।’’ অর্থাৎ যদি দ্রুত রোগা হতে চান, তা হলে অভিনেতা রামচরণের সঙ্গে একটি গানের শুটিং করলেই হবে। জাহ্নবী বলছেন, রামচরণের নাচের গানে এত বেশি কসরত ও এনার্জির প্রয়োজন হয় যে, কয়েক দিনের মধ্যেই শরীরে পরিবর্তন টের পাওয়া যাবে। জাহ্নবী হয়তো মজার ছলেই এ কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে সহমত একাধিক চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ।
নাচ যে ওজন ঝরানোর অন্যতম কার্যকরী পন্থা, তা স্বীকার করেছেন অনেকেই। চিকিৎসকেরা বলছেন, এক ঘণ্টা প্রবল কায়িক শ্রমের সঙ্গে নাচ করলে এক জন সাধারণ ব্যক্তির প্রায় ৩৫০-৬০০ ক্যালোরি পর্যন্ত ঝরতে পারে। যদিও তা নির্ভর করে শরীরের ওজন, নাচের গতি এবং কতটা নড়াচড়া করছেন, তার উপর। নাচের সময়ে শুধু পা নয়, হাত, কোমর, কাঁধ, পেট— পুরো শরীর একসঙ্গে কাজ করে। ফলে হৃৎস্পন্দনও বেশি থাকে। নাচ আসলে কার্ডিয়ো ব্যায়ামের মতো কাজ করতে পারে।
আরও পড়ুন:
তবে অন্যান্য ব্যায়াম ও শারীরচর্চার তুলনায় এতে বাড়তি উপকারও মিলবে। আর তা হল, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি। মনোবিদদের মতে, নাচের সময়ে শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কেরও একাধিক অংশ সক্রিয় হয়। তাল, পা ফেলা, ভঙ্গি, শরীরের ভারসাম্য, স্মৃতি— সব কিছুকে এক সুতোয় বাঁধতে হয়। ফলে তা স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং মানসিক তৎপরতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত নাচ করলে বয়স বাড়ার পর স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও কমতে পারে।
এ সবের সঙ্গে আনন্দ ও সুখ বড় ভূমিকা পালন করে। নাচে যত সুখ, তা খুব কম ব্যায়ামেই পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, একা বা অনেকে মিলে নাচ করলে শরীরে অক্সিটোসিন নামের হরমোন নিঃসরণ ঘটতে পারে, যা অনেক সময়ে মানসিক চাপ কমাতে পারে, মনকে ফুরফুরে রাখে, পাশাপাশি ওজন কমায় তো বটেই।