স্থূলতার হাত ধরে যে সব রোগ শরীরে বাসা বাঁধে, তার মধ্যে একটি হল ফ্যাটি লিভার। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়ার ফলে লিভারে মেদ জমা হতে হতে এই সমস্যা আরও বড় আকার নেয়। লিভার সাধারণত ৫ থেকে ৬ শতাংশ চর্বি শোষণ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি চর্বি জমা হতে থাকলেই তা বিপজ্জনক। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা পরবর্তীতে লিভারের ক্ষত বা লিভার সিরোসিসে গড়াতে পারে। এই রোগ এক বার শরীরে বাসা বাঁধলে অনেকেই ভেবে বসেন, এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনাই নেই। সম্প্রতি হৃতিক রোশনের বোন সুনয়না রোশন জানিয়েছেন, কী ভাবে তিনি গ্রেড ৩ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হয়েও একেবারে সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছেন।
ফ্যাটি লিভার পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব। সুনয়না বলেন, ‘‘শৃঙ্খলাই আমার জীবন বাঁচিয়েছে এবং এই কথাটা আমি হালকা ভাবে বলছি না। আমার গ্রেড ৩ ফ্যাটি লিভার ধরা পড়েছিল। আমি জাঙ্ক ফুডে (রাস্তার খাবার, ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার) আসক্ত ছিলাম এবং মদ্যপানের আসক্তি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দিয়েছিল। আমি বুঝতেই পারিনি যে, এই অভ্যাস আমার শরীরের কতটা ক্ষতি করে দিয়েছে। যখন আমি আমার রিপোর্টগুলি দেখলাম, আমার সামনে দু'টি পথ খোলা ছিল — হয় সেগুলিকে উপেক্ষা করা, নয়তো নিজের শরীরকে সুস্থ করে তোলা। তাই, আমি বড় সিদ্ধান্ত নিলাম।’’
কী ভাবে ফ্যাটি লিভার সারল সুনয়নার?
জীবনযাপনে বড় পরিবর্তন আনলেন সুনয়না। তিনি বলেন, ‘‘নিয়মিত ব্যায়াম করা, সুস্বাদু খাবার স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে বাড়িতেই বানিয়ে খাওয়া এবং সবার উপরে নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য ছিল। আমি প্রশিক্ষণ নিয়েছি, শরীরচর্চা করেছি, ইচ্ছে না করলেও জিমে গিয়েছি। আর আমার অদম্য মনোবলের জোরেই আমি গ্রেড ৩ ফ্যাটি লিভারকে সারিয়ে তুলতে পেরেছি। আপনার শরীর যদি আপনাকে পরিবর্তন আনতে বলে, তবে তার কথা শুনুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন।’’
ফ্যাটি লিভার রাতারাতি হয় না এবং এটি রাতারাতি সেরেও যায় না। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করা এবং অ্যালকোহল ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের মতো উত্তেজক বিষয়গুলি এড়িয়ে চললে লিভারের ক্ষতি কমতে পারে, এমনকি লিভার সেরে আগের অবস্থায় ফিরেও যেতে পারে। সবটাই নির্ভর করবে, কতটা ক্ষতি হয়েছে, তার উপর। তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ, তাই ধৈর্য হারালে চলবে না।