বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি। ঘন ঘন গর্জে উঠছে মেঘ। এমন সময়ে গরম জলে প্রাণ ভরে স্নান সেরে নিলে মন্দ হয় না, মনে হতেই পারে। বিপদের শুরু ঠিক এখানেই। জানেন কি, বজ্রপাতের সময়ে স্নান করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে? বিষয়টি নিছক কুসংস্কার নয়। এর পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ।
অনেকেই ভাবেন, বজ্রপাত তো বাইরে হচ্ছে। ঘরের ভিতরে আর কিসের ভয়?
বজ্রপাতের সময়ে কী ভাবে নিরাপদ থাকবেন? ছবি: সংগৃহীত
আসলে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ শুধু আকাশেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কোনও বাড়ি বা তার আশপাশে বজ্রপাত হলে সেই বিদ্যুৎ বিভিন্ন পথ ধরে সঞ্চারিত হতে পারে। জল সরবরাহের পাইপ, বৈদ্যুতিক তার বা ধাতব সংযোগ তার অন্যতম মাধ্যম। ফলে সেই সময়ে আপনি যদি স্নান করেন বা কলের জল ব্যবহার করেন, তা হলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ কেবল স্নান নয়, হাত ধোয়া, বাসন ধোয়ার মতো কোনও কাজেই জল ব্যবহার করা যাবে না সেই সময়ে। মনে রাখবেন, জল বিদ্যুতের পরিবাহী। জল আর বিদ্যুতের মেলবন্ধন মোটেই ভাল নয়। বজ্রপাতের ক্ষেত্রেও সেই একই যুক্তি কাজ করে। পাশাপাশি, তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রও ব্যবহার করা যাবে না।
বজ্রপাতের শক্তিশালী বৈদ্যুতিক স্রোত জল সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর সেই কারণেই বজ্রপাত চলাকালীন স্নান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎবাহী জল গায়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদ্রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন কেউ কেউ। তাই এই সময়ে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ঝড়বৃষ্টি, বজ্রপাত না থামা পর্যন্ত কোনও ভাবেই জল ব্যবহার, তারযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকা দরকার।
বহু বাড়িতেই এখন প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার হয়। তাই অনেকেই মনে করেন, এতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু জল সরবরাহ ব্যবস্থার সব অংশ প্লাস্টিকের হয় না। কোথাও না কোথাও ধাতব সংযোগ থাকতেই পারে। তাই ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আপনার বাড়ির পাইপ প্লাস্টিকের হোক বা ধাতব, একই ভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
বজ্রপাত থেমে যাওয়ার পরও অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা ভাল। তার পর স্নান বা জল-সংক্রান্ত অন্য কাজ করা যেতে পারে। নয়তো বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকে যায়।