Advertisement
E-Paper

সাধের ভুঁড়িতে ভীষণ বিপদ! পেটে জমা কোন মেদ বেশি ক্ষতিকর, নরম না শক্ত?

কারও মেদ জমে তলপেটে, কারও আবার ভুঁড়িটি হয় ‘নাদুসনুদুস’ গোছের। পেটে জমা এই মেদই ইঙ্গিত দেয় বিপদের। কোন ধরনের মেদ, কোন সমস্যার ইঙ্গিতবাহী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০১
ভুঁড়ি পরখ না করলেই বিপদ!

ভুঁড়ি পরখ না করলেই বিপদ! ছবি: সংগৃহীত।

তিন মন ওজনের দামোদর শেঠের কাছে ভুঁড়ি গর্বের বিষয়বস্তু হতে পারেই, তবে তা দেখে অনুপ্রাণিত হলেই বিপদ। অনেকেই বলবেন, সুখী পুরুষের লক্ষণ একটি নাদুসনুদুস ভুঁড়ি। তবে সেই ‘সুখ’-এর লক্ষণই হতে পারে অসুখের কারণ।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ-নারী উভয়েরই ‘মধ্যপ্রদেশ’- এ মেদ জমতে শুরু করে। কারও মেদ জমে তলপেটে, কারও পেটের উপরের অংশটি ফুলে শক্ত হয়ে যায়। তবে পুরুষদের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত ঢাউস একটা ভুঁড়ি বেশি দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আকারে বাড়তে থাকে। কারও পেটে জমা মেদ হয় তলতলে, নরম। কারও হয় একেবারে শক্ত। শক্ত বা নরম, কোন ধরনের ভুঁড়ি কোন সমস্যার ইঙ্গিতবাহী?

দিল্লির একটি হাসপাতালের পেটের রোগের চিকিৎসক শুভম বৎস জানাচ্ছেন, এই ভুঁড়িতেই লুকিয়ে বিপদ। বিশেষত শক্তপোক্ত মধ্যদেশটি আরও বিপজ্জনক। নেটপ্রভাবী চিকিৎসক সমাজমাধ্যমে এক ভিডিয়োয় শক্ত হয়ে জমা মেদের বিপদ নিয়ে সচেতন করেছেন। কারণ, এমন মেদ হল ভিসেরাল ফ্যাটের ইঙ্গিতবাহী। ভিসেরা বলতে শরীরের মধ্যস্থ নরম প্রত্যঙ্গগুলিকে বোঝায়, যার মধ্যে লিভার, অগ্ন্যাশয়, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, সবই থাকে। তার উপর জমতে পারে এই ধরনের ফ্যাট। সমস্যা হল, ভিসেরাল ফ্যাট হরমোনের ওঠাপড়াকে প্রভাবিত করে, বিপাকক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও কম-বেশি হতে পারে। হার্টের পক্ষেও তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

পেটে জমা নরম বা থলথলে চর্বি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর, বলছেন চিকিৎসক। কারণ, এই ধরনের মেদ শুধু চামড়ার নীচে জমে। সাধারণত, বিপাকক্রিয়া বা বিপাকহারে তেমন কোনও প্রভাব ফেলে না। তবে হাত দিয়ে চাপ দিলে যদি পাকস্থলীর জায়গাটি শক্ত লাগে, তা হলে কিন্তু তা বিপদ সঙ্কেত।

বিপদ কোথায়?

ভিসেরাল ফ্যাট জমতে পারে পাকস্থলী, অন্ত্র, অগ্ন্যাশয়ের উপরেও। গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গগুলি ফ্যাটে ভরে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই তার কার্যকারিতা কমে যায়। শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘জমে থাকা এই ধরনের ফ্যাট থেকে প্রদাহনাশক রাসায়নিক নির্গত হয়, যা দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ইনসুলিনের উপরেও প্রভাব ফেলে। এই হরমোনটি খাবারের শর্করাকে কোষে পৌঁছতে এবং তা থেকে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু ইনসুলিন ঠিক ভাবে কাজ না করলেই বিপদ, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তার প্রভাব পড়তে শরীরের অন্যান্য প্রত্যঙ্গেও।"

চিকিৎসক জানাচ্ছেন, শুধু ওজনের কমা-বাড়া বা বিপাকহারে নজর রাখাই যথেষ্ট নয়, ভুঁড়িটিও পরখ করা জরুরি। শরীরচর্চা, প্রোটিন খাবার, পর্যাপ্ত ঘুমই পারে মধ্যদেশে মেদ জমা আটকাতে। আর সেটি না করতে পারলেই ঘটতে পারে বিপদ।

Belly Fat Hard vs soft Belly Fat
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy