Advertisement
E-Paper

মিষ্টিতে মজেছেন জ্যাকি শ্রফ, শারীরচর্চা করলে কি মিষ্টি খাওয়া যায়, না কি খেলেই বিপদ?

রাত হলেই মিষ্টি খাওয়ার জন্য মন ছটফট করে। আম তো আছেই, রসমালাই, জিলিপি— মিষ্টি দেখলেই খেয়ে ফেলেন অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ। এমন অভ্যাস কতটা ক্ষতিকর?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ২১:১২
জ্যাকি শ্রফ মিষ্টিপ্রেমী।  স্বাস্থ্যের কথা ভাবলে মিষ্টি খাওয়া কি ছাড়তে হবে?

জ্যাকি শ্রফ মিষ্টিপ্রেমী। স্বাস্থ্যের কথা ভাবলে মিষ্টি খাওয়া কি ছাড়তে হবে? ছবি:সংগৃহীত।

শাহরুখ খান, জন আব্রাহামের মতো অভিনেতারা যখন মিষ্টি ছুঁয়েই দেখেন না, তখন মিষ্টিতেই ডুবে থাকেন প্রবীণ অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ। ৭০ ছুঁইছুঁই বয়সে শারীরচর্চা করলেও আম থেকে গুলামজাম, রসমালাই, কেক, পায়েস সবেতেই তিনি আছেন।

জ্যাকি মজা করে বলেছেন, ‘‘ছ’ঘণ্টা ঘুমোই, বাকি সময়টা মিষ্টিতেই থাকি।’’

এক সময়ে বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন তিনি। এখন অভিনয় জগত থেকে খানিক দূরেই। পরিবার নিয়ে ঘোর সংসারী। স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য সন্তানদের কথা শুনে শারীরচর্চা করেন ঠিকই, তবে রাত হলেই তাঁর মন খোঁজে ভাল মিষ্টি। এমন অভ্যাস যে মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়, তা-ও জানা আছে। তবে লোভ ছাড়তে পারেন না। জ্যাকি অনুরাগীদের বলেওছেন, তাঁর এই অভ্যাসে অনুপ্রাণিত না হতে।

মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবার কতটা ক্ষতিকর?

চিনি বা মিষ্টি শরীরে গভীর ভাবে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। চিনির উপস্থিতিতে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক সুখী হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায় বলে, পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি হয়। সেই কারণে, পেস্ট্রি, মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রতি এত ভাললাগা তৈরি হয়। যে সমস্ত চিনি জাতীয় খাবারে উচ্চ মাত্রায় ফ্রুক্টোজ় মেলে সেগুলি আরও ক্ষতিকর। কারণ, ফ্রুক্টোজ় ফ্যাট বা চর্বিতে পরিণত হয়ে লিভারে জমতে শুরু করে। ফলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা যায়। বাড়তে পারে কোলেস্টেরল। ক্ষতি হতে পারে ত্বকেরও। শারীরচর্চা করে ক্যালোরি খরচ করা গেলেও, ক্ষতি পুরোপুরি এড়ানো কঠিন।

মিষ্টি খেলে মনে বেশ ফুরফুরে লাগে। কিন্তু ডায়াবিটিস থাকলে বা ওজন বৃদ্ধির ভয় থাকলে মিষ্টি খাওয়া চলে না। তা ছাড়া, চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা বলেন, মিষ্টি শরীরের কোনও উপকারে আসে না। তা হলে কি মিষ্টি খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত?

পুষ্টিবিদ আমরীন শেখ এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, জিলিপি, গুলাবজামুন, রসমালাইয়ে প্রচণ্ড মিষ্টি থাকে। ফলে নিয়ম করে খেলে বা একসঙ্গে কয়েকটা মিষ্টি খেয়ে ফেললে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ওজন বেড়ে যাওয়ারও ভয় থাকে। ফ্যাটি লিভার সহ অনেক অসুখের ঝুঁকি এমন অভ্যাসে বাড়তে পারে। তবে পুরোপুরি মিষ্টি খাওয়া ছাড়তে বলছেন না তিনি। বরং তাঁর পরামর্শ, মাঝেমধ্যে এক-আধটা খাওয়ার। একবারে বেশি না খাওয়ার।

এর আগে নায়িকা করিনা কপূরের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকরও বলেছিলেন, মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, মিষ্টিকে শত্রু ভেবে বসলে মুশকিল। মেপে খেলে মিষ্টির জন্য কখনওই ওজন বাড়ে না। পুষ্টিবিদের কথায়, ‘‘এমন যদি হয়, কেউ অবসাদে ভুগছেন এবং সে সময়ে মিষ্টি খেয়েই তিনি ভাল থাকছেন, তবে তাতে স্বাস্থ্যে খারাপ প্রভাব পড়বে, ওজনও বাড়বে। কিন্তু যদি আনন্দের মুহূর্ত উদ্‌যাপন করার জন্য খান, তা হলে তাতে কোনও ক্ষতি নেই।’’ পুষ্টিবিদেদের স্পষ্ট বক্তব্য, পরিমিতি বোধই আসল কথা।

Jackie Shroff

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy