Advertisement
E-Paper

শিশুর শরীরে মাছের আঁশটে গন্ধ! পরিচ্ছন্নতার অভাব নয়, হতে পারে জিনগত রোগের লক্ষণ

‘ফিশ ওডর সিনড্রোম’ একটি বিরল বিপাকীয় ব্যাধি, যার ফলে শরীর থেকে ঘাম, নিঃশ্বাস ও প্রস্রাবের মাধ্যমে একটি তীব্র ও অপ্রীতিকর গন্ধ নির্গত হয়। এই গন্ধের সঙ্গে পচা মাছের গন্ধের তুলনা করা হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৭:১৩
ফিশ ওডর সিনড্রোম কী অসুখ?

ফিশ ওডর সিনড্রোম কী অসুখ? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

শিশুর দেহ থেকে বেরোচ্ছে, মাছের আঁশটে গন্ধ— বিষয়টি শুনলে প্রথমে মনে হতেই পারে কোথাও হয়তো পরিচ্ছন্নতায় ঘাটতি থাকছে। তবে এই সমস্যা কিন্তু হতে পারে জিনবাহিত রোগ ট্রাইমিথাইলঅ্যামিনুরিয়া বা ‘ফিশ ওডর সিনড্রোম’-এর লক্ষণ।

‘ফিশ ওডর সিনড্রোম’ একটি বিরল বিপাকীয় ব্যাধি, যার ফলে শরীর থেকে ঘাম, নিঃশ্বাস ও প্রস্রাবের মাধ্যমে একটি তীব্র ও অপ্রীতিকর গন্ধ নির্গত হয়। এই গন্ধের সঙ্গে পচা মাছের গন্ধের তুলনা করা হয়। সাধারণত একটি জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যাটি দেখা যায়। এই পরিবর্তনের ফলে পরিপাক প্রক্রিয়ার সময় শরীর দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ ট্রাইমিথাইলঅ্যামাইনকে ভেঙে ফেলতে বা বিশ্লেষণ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বংশগত কারণ ছাড়াই সাময়িক সময়ের জন্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। লিভার বা কিডনির গুরুতর রোগ, হরমোনজনিত পরিবর্তন, অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়ার অত্যধিক বৃদ্ধির কারণেও এই রোগ হয়। অনেক সময় খাদ্যাভ্যাসের কারণেও এই রোগ হতে পারে। প্রোটিনযুক্ত কিছু খাবার খেলে, অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়া সেগুলি ভেঙে ট্রাইমিথাইলঅ্যামাইন (টিএমএ) তৈরি করে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে, যকৃতের এফএমও৩ উৎসেচক এই টিএমএ-কে একটি গন্ধহীন যৌগে রূপান্তরিত করে। ‘ফিশ ওডর সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উৎসেচকটি কাজ করে না। ফলে রূপান্তরিত না হওয়া ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন শরীরে জমা হতে থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন তরলের মাধ্যমে নির্গত হয়ে তীব্র গন্ধ বার হয়।

কতটা ভয়ের এই রোগ?

এই রোগটি তেমন ভয়ের নয়, কিন্তু শিশুরা একটু বড় হতে শুরু করলে এই রোগের কারণে তাদের মানসিক চাপ বাড়তে পারে। সমাজে মেলামেশার ক্ষেত্রে তারা অনেক সময় সরে আসে। তারা ঘরবন্দি হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কিন্তু বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

রোগমুক্তি?

এই রোগ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিনগত কারণে হয়, সে ক্ষেত্রে রোগমুক্তি সে ভাবে সম্ভব নয়। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর ডায়েট ও জীবনধারায় পরিবর্তন এনে রোগকে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত শিশুদের লো কোলাইন ডায়েটে রাখা হয়। কোলাইন ভেঙে ট্রাইমিথাইলঅ্যামাইন তৈরি হয়। ডিম, সয়াবিন, পশুর যকৃৎ, কড়াইশুঁটি আর নির্দিষ্ট কিছু মাছ খাওয়া বন্ধ করতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশু বড় হলে বিপাকক্রিয়া উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

Genetic Disorder

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy