এখন চিয়া, তিসি, তুলসী বীজের রমরমা বেড়েছে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের রোজের ডায়েটে। তবে এই সব ‘সুপার ফুড’-এর তালিকায় কালো তিলকে বাদ দিলে কিন্তু চলবে না। হেঁশেলে কমবেশি সাদা দিলের ব্যবহার হলেও কালো তিল অনেকেই কেনেন না। তবে কালো তিলের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা জানলে এই ভুল করার আগে বেশ ভাবতে হবে।
প্রোটিন, ফাইবার আর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ কালো তিলে খনিজও থাকে ভরপুর মাত্রায়। তিল ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জ়িঙ্ক, কপারের ভাল উৎস।
কী কী উপকারিতা?
১) কালো তিলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমে। দেহকোষের ক্ষতি কম হয়। এর ফলে বার্ধক্যের গতি ধীর হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
২) কালো তিলে থাকা রকমারি খনিজ রক্তনালিগুলিকে প্রসারিত করে, ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীরা কালো তিল খেতে পারেন।
৩) কালো তিলে সেসামোল এবং সেসামিন নামক দু’টি যৌগ থাকে। এই দুই যৌগের মধ্যে ক্যানসাররোধী গুণ আছে। ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রুখতে সাহায্য করে।
৪) কালো তিলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে কালো তিল খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৫) ত্বক আর চুলের জন্যেও কালো তিল উপকারী।
কালো তিল কি সাদা তিলের থেকেও বেশি স্বাস্থ্যকর?
সাদা ও কালো তিলের মধ্যে কেবল স্বাদের নয়, পুষ্টিগত পার্থক্যও রয়েছে। স্বাস্থ্যগুণ বিচার করলে সাদা তিলের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে কালো তিল। কালো তিলে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ়, পটাশিয়াম আর ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা সাদা তিলের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে। সাদা তিলের তুলনায় কালো তিল সহজপাচ্য। সুগারের রোগীদের জন্যও কালো তিল খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর।
কী ভাবে খাবেন?
১) কালো তিল শুকনো তাওয়ায় ভেজে নিয়ে গুঁড়ো করে নিন এ বার সেই গুঁড়ো দুধ, স্মুদি, শরবতে মিশিয়েও খেতে পারেন। স্যালাডের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন।
২) কালো তিল শুকনো তাওয়ায় ভেজে স্যালাডের উপরে ছড়িয়ে, দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে কিংবা ওট্সের সঙ্গেও খেতে পারেন।
৩) খেজুর দিয়ে কালো তিলের লাড্ডু বানিয়েও খেতে পারেন।
কারা খাবেন না?
তিলে অনেকের অ্যালার্জি থাকে, তাঁরা কালো তিল খেবেন না। এ ছাড়া ব্লিডিং ডিজ়অর্ডার থাকলে বা হজমজনিত সমস্যা থাকলে কালো তিল না খাওয়াই ভাল।
উপরের প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। ক্রনিক অসুখ থাকলে ডায়েটে বদল আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।