হলুদ দুধ বা ‘গোল্ডেন মিল্ক’-এর মতো স্বাস্থ্যকর পানীয় কমই আছে, এমন ধারণা অনেকেরই। শীতের দিনে এই পানীয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে রাতে ঘুমোনোর আগে হলুদ দুধ খেয়ে ঘুমোনোর চল আছে। অতিমারির সময় থেকে হলুদ মিশ্রিত দুধের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। হলুদ স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী কি না, তা নিশ্চিত ভাবে নির্ণীত না হলেও এই পানীয়ের চল কিন্তু বহু দিনের।
তবে এই পানীয় খাওয়ার সময়ই অনেকেই একটা বড় ভুল করে বসেন। অনেকে শুতে যাওয়ার ঠিক আগে এই পানীয় খান, আর এতেই লাভের থেকে বেশি ক্ষতি হয়। হলুদ-দুধে ক্যালরির মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে, তাই তা হজম হতে বেশ খানিকটা সময় নেয়। এই পানীয় খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমোতে গেলে হজমের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
হলুদে কারকিউমিন থাকে, যার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে। ঘুমানোর ঠিক আগে, বিশেষ করে পেট ভরে খাবার খাওয়ার পরে, এটি এই পানীয় না খাওয়াই ভাল। কারকিউমিন পিত্ত উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে, তাই শুয়ে থাকার সময় অনেকের পেটে অস্বস্তি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতে পারে। তা ছাড়া দুধ একটি ভারী খাবার। দুধ হজম হতে সময় নেয়। তার উপর রাতে হজমপ্রক্রিয়া এমনিতেই ধীর হয়ে যায়। তাই শুয়ে পড়ার ঠিক আগে দুধ-হলুদ খাওয়া হলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতেই পারে। বিশেষ করে যাঁদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তাঁদের জন্য এ অভ্যাস মোটেও ভাল নয়।
কখন খেলে ভাল?
রাতের খাবারের আগে দুধ-হলুদ খেয়ে নিতে পারেন। খাবার খাওয়ার আগেই হলুদ-দুধ খেয়ে নিলে পেট ভরা থাকবে, তাই খুব বেশি খাবার খেতে পারবেন না। খাওয়াদাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরেই ঘুমোতে যাওয়া উচিত।