সারা বছর পাওয়া যায় না। তাই শীতকালে বাঙালি বাড়িতে কমলালেবুর কদর বেশি হয়। বাজার ফিরতি প্রায় সকলের ব্যাগেই উঁকি মারে কমলালেবু। শীতের রোদে বসে খোসা ছাড়িয়ে কমলালেবুর কোয়া মুখে পুরতে মন্দ লাগে না। আবার অফিসে কাজ করতে করতে কমলালেবু খাওয়ার মজাই আলাদা। শীত থাকতে থাকতেই যতটা সম্ভব এর স্বাদ আস্বাদন করে নেওয়া যায়।
কমলালেবুতে রয়েছে ভরপুর পরিমাণে ভিটামিন সি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভিটামিন সি-এর জুড়ি মেলা ভার। শীতকালীন সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে কমলালেবু। তা ছাড়া শীতকালে জল খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। সে ক্ষেত্রে জলের বিকল্প হতে পারে কমলালেবু। ত্বকের যত্ন নিতেও কমলালেবুর ভূমিকা অপরিহার্য। কমলালেবুতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের পুষ্টি উপাদান কোলাজেন উৎপাদন করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া কমলালেবুতে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, বিভিন্ন খনিজ। সে হিসেবে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে কমলালেবু সত্যিই উপকারী।
ফল মাত্রই স্বাস্থ্যকর। কমলালেবুরও স্বাস্থ্যগুণ কম নেই। তবে কাদের এই ফল খেলে সমস্যা হতে পারে? না জেনেই শরীরের ক্ষতি করছেন না তো?
১) কমলালেবুতে ভরপুর মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে। পটাশিয়াম হার্টের রোগীদের জন্য ভাল হলেও যাঁদের ক্রনিক কিডনির অসুখ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কিন্তু অত্যধিক মাত্রায় এই খনিজ শরীরে যাওয়া মোটেও ভাল নয়। তাই কিডনির রোগীদের কমলালেবু খাওয়ার আগে সতর্ক হতে হবে।
২) সাইট্রাস বা টক জাতীয় ফল খেলে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কমলালেবুতে এমন কিছু প্রোটিন আছে, যা ব্যক্তিবিশেষের ত্বকে প্রদাহের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
৩) বেশি কমলালেবু খেলে আবার অম্বলের সমস্যা হতে পারে। তাই যাঁরা বদহজম কিংবা অম্বলের সমস্যায় প্রায়ই ভোগেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কমলালেবু বুঝেশুনে খাওয়াই ভাল। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলেও কমলালেবু খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।