Advertisement
E-Paper

রাতে মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুম হয়? কমতে পারে শুক্রাণুর মান, ঘুমের সঙ্গে টেস্টোস্টেরন হরমোনের কী সম্পর্ক

রাতের পর রাত কম ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে শরীর ঠিকই আছে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হচ্ছে তলে তলে। মাত্র ঘণ্টা চারেকের ঘুম পুরুষদের ক্ষেত্রে কী বিপদ ডেকে আনতে পারে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৭
Poor sleep and chronic stress are silently lowering testosterone and affecting mens mental health

রাতে ঘণ্টা চারেক ঘুম পুরুষদের জন্য কেন বিপজ্জনক? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কাজের চাপ, দুশ্চিন্তায় ঘুম কম হওয়া স্বাভাবিক। তবে রাতের পর রাত যদি ঘুম কম হয়, তা হলে মুশকিল। রোজের যাপন ও কাজের ধারায় ‘স্লিপ সাইক্‌ল’ বদলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কখনও রাত জেগে অফিসের কাজ, আবার কখনও বেশি রাত অবধি টিভি দেখা, ল্যাপটপ অথবা মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে কাটিয়ে দেন অনেকে। সব মিলিয়ে, ঘুমের সময় রোজই বদলাচ্ছে। কিন্তু শরীরের ঘড়ি কি অত দ্রুত সময় পাল্টাতে পারছে? ফলে ঘুমের অভাবে ক্লান্তি, অবসাদ গ্রাস করছে। আরও একটি সমস্যা হচ্ছে, যা হল কম ঘুম পুরুষদের শুক্রাণুদের মান কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বন্ধ্যত্বের সমস্যা আরও বাড়ছে।

ঘুম এবং হরমোন

শরীরেরও একটি ঘড়ি আছে, যাকে বলে ‘জৈবিক ঘড়ি’। এই ঘড়ি নির্দিষ্ট ছন্দে চলে। দেহঘড়ির এই ছন্দ মেনে চব্বিশ ঘণ্টা ধরে নানা গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ চলতে থাকে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম আসে, সকালে ঘুম ভাঙে, নির্দিষ্ট সময়ে খিদে পায়। এই জৈবিক সময়ছন্দকে বলা হয় ‘সার্কাডিয়ান রিদম’, বা ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’। সেই মতো হরমোনের ক্ষরণও নিয়ন্ত্রিত হয়। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরা দেখেছেন, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের ভিতরে হাজার হাজার নিউরন নিয়ে গঠিত ‘সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস’ শরীরের কেন্দ্রীয় ঘড়ি হিসেবে কাজ করে। এই ঘড়ির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াগুলি নিয়ন্ত্রিত হয় ও বাইরের সময়চক্রের সঙ্গে শরীরের সামঞ্জস্য বজায় রাখে। কোনও কারণে যদি ঘড়ির ছন্দ বিগড়ে যায়, তা হলে শরীরের ভিতরে তৈরি প্রোটিন, হরমোনগুলির ভারসাম্যও নষ্ট হবে। জৈবিক ঘড়ির নিয়ম অনুযায়ী এক জন প্রাপ্তবয়স্কের রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। ওই সময়ে শরীরে নানা হরমোনের ক্ষরণ ও তাদের ক্রিয়াকলাপ চলতে থাকে। যদি সময়টাকে কমিয়ে ২-৪ ঘণ্টায় নিয়ে আসা হয়, তখনই গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলির কাজকর্ম নষ্ট হবে। তার মধ্যে টেস্টোস্টেরন হরমোনও রয়েছে।

হার্ভার্ডের গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে জেগে থাকেন, ভোরের দিকে মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমোন, তাঁর শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য ঠিক নেই। আর এই হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে শুক্রাণুর উৎপাদন ও তার গুণগত মানও নষ্ট হবে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়বে।

দেহঘড়ি বিগড়ে গেলে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণও বাড়ে। একে বলা হয় ‘স্ট্রেস হরমোন’। কর্টিসল বেড়ে গেলে টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ কমে যায়। ফলে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপপনিয়া’-র ঝুঁকি বাড়ে। এই রোগে ঘুমের মধ্যে বারে বারে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। প্রদাহ বাড়ে, যা থেকে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেহঘড়ি দীর্ঘ সময় ধরে বিঘ্নিত হলে টাইপ-২ ডায়বিটিস, স্থূলতা, হৃদ্‌রোগ, ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এর থেকেও শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে। তাই রাতে টানা ঘুম জরুরি। যদি ঘুম আসতে না চায়, তা হলে মেডিটেশন করুন বা ব্রিদিং এক্সারসাইজ়। এতেও ঘুমের সমস্যা দূর হবে।

sleep cycle Testosteron Male Fertility
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy