Advertisement
E-Paper

‘হেয়ার এক্সটেনশন’ বিপজ্জনক! ৯০০ রকম রাসায়নিকে বাড়তে পারে ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

চুলের বাহারি সাজেই লুকিয়ে বিপদ। কোমর ছাপানো ঘন ও লম্বা চুল পেতে হেয়ার এক্সটেনশনে মজেছেন কমবয়সিরা। আর তাতেই ঘনাচ্ছে বিপদ। কৃত্রিম এই পদ্ধতি কতটা বিপজ্জনক, তা জানিয়েছেন গবেষকেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২০
Researchers found more than 900 chemicals in hair extension products links to cancer and reproductive problems

হেয়ার এক্সটেনশন করালে কী কী রাসায়নিক ঢুকে যায় শরীরে? ফাইল চিত্র।

চুলের বাহারি সাজসজ্জা এখন আর কেবল ফ্যাশন নয়, রোজের যাপনেও ঢুকে পড়েছে। কেউ রিল বানাতে বা কেউ ইউটিউব ভিডিয়োয় নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা রকম ভাবে ত্বক ও চুলের উপরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। ঘন ঘন চুলের রং বদলানো, হেয়ার স্ট্রেটনার বা হিট স্টাইলিং এবং হালফিলে হেয়ার এক্সটেনশন— এতেই মজেছেন কমবয়সি থেকে মধ্যবয়সিরা। চুল লম্বা ও ঘন দেখাতে বা তারকাদের মতো চুলে ঢেউখেলানো ফোলা ভাব আনতে হেয়ার এক্সটেনশন অনেকেই করান। কিন্তু এই পদ্ধতি যে কতটা বিপজ্জনক, তা জানিয়েছেন গবেষকেরা।

কতটা বিপজ্জনক হেয়ার এক্সটেনশন?

চুলের দৈর্ঘ্য বা ঘনত্ব বেশি দেখানোর এক কৃত্রিম পদ্ধতি হল হেয়ার এক্সটেনশন। এতে নকল চুল আঠা, ক্লিপ বা অন্য পদ্ধতিতে নিজের চুলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। আবার আঠালো টেপের মাধ্যমে নকল চুল এমন ভাবে মাথায় জুড়ে দেওয়া হয়, যা দেখতে অবিকল আসলের মতোই লাগে। অনেক সময় আবার পাতলা চুল ঘন দেখাতে প্রাকৃতিক চুলের মাঝেমাঝে নকল চুল বসিয়ে দেওয়া হয় নানা রকম রাসায়নিক ব্যবহার করে। এই ধরনের এক্সটেনশন স্থায়ী ও অস্থায়ী, দুই ভাবেই করা যায়। কেউ কয়েক দিনের জন্য আবার কেউ মাসের পর মাস এই রাসায়নিকের ব্যবহার করে এক্সটেনশন টিকিয়ে রাখেন। আর সেখানেই ঘনায় বিপদ।

‘আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, হেয়ার এক্সটেনশনে যে ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তা ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। ৪৩ রকম এক্সটেনশন করানোর পণ্য গবেষণাগারে খুঁটিয়ে দেখে গবেষকেরা প্রায় ৯০০ রকম রাসায়নিকের খোঁজ পেয়েছেন, যা শরীরে ঢুকলে ক্যানসার তো বটেই, হরমোনের বদল এমন ভাবে ঘটাবে, যা পরবর্তী সময়ে বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কেন হেয়ার এক্সটেনশন ক্ষতিকর?

কেন হেয়ার এক্সটেনশন ক্ষতিকর? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কী কী ধরনের রাসায়নিক নিয়ে ভয় বেশি?

হেয়ার এক্সটেনশনের প্রথম ক্ষতিকর দিক হল, এটি চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়। যেহেতু দিনের পর দিন নকল চুল মাথার আসল চুলের সঙ্গে জুড়ে রাখা হয়, তাই মাথার ত্বকে চাপ পড়ে। ফলে রক্ত সঞ্চালনে ক্ষতি হয়। চুলের স্বাভাবিক মেলানিন নষ্ট হতে থাকে।

হেয়ার এক্সটেনশন করানোর পরে সেটি দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় করতে তার উপর আবার নানা রকম হেয়ার ডাই, কন্ডিশনার ব্যবহার করা হয়, যেগুলি চুলের স্বাভাবিক কেরাটিন নষ্ট করে দেয়।

হেয়ার এক্সটেনশনে যে সব রাসায়নিক পাওয়া গিয়েছে, তার কয়েকটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণাপত্রে। যেমন, অর্গানোটিন, যা শিল্পকারখানার রঙে থাকে। এটি মানুষের শরীরে ঢুকলে ক্যানসারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বেঞ্জিন নামে আরও এক রাসায়নিক থাকে, যা রক্তের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ রাসায়নিকটি হল থ্যালেট, যা প্লাস্টিকজাত পণ্যে পাওয়া যায়। এটি হরমোনের বিকৃতি ঘটায়, প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। টেট্রাক্লোরোইথেন নামে আরও এক ধরনের রাসায়নিক পাওয়া গিয়েছে, যা শ্বাসনালির ক্ষতি করে। এটি থেকে ফুসফুসের ক্যানসারও হতে পারে।

Cancer Risk infertility
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy