হামের মতোই ছোঁয়াচে রোগ। সারা গায়ে গুটি গুটি র্যাশ বেরোয়, সঙ্গে ধুম জ্বর আসে। তবে হামের চেয়েও রুবেলার জটিলতা বেশি। খুব দ্রুত ছড়াতে পারে এই রোগ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে, রুবেলা থেকে হার্টের সমস্যা হতে পারে। দেখা দিতে পারে চোখের ভয়াবহ সংক্রমণ।
ঋতু বদলের সময়ে রুবেলার প্রকোপ বাড়ে। রুবেলা ভাইরাস থেকে রোগটি ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত রুমাল ও জামাকাপড় থেকে ভাইরাস খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ শিশুদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার মা বা বাবার শরীরে সংক্রমণ থাকলে, তা থেকে ছোটদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তবে কিশোর-কিশোরী এবং অন্তঃসত্ত্বাদেরও রুবেলার সংক্রমণ হতে পারে।
লক্ষণ চিনে সতর্ক হতে হবে
শরীরে ভাইরাস ঢোকার ২-৩ সপ্তাহ পরে উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। এ ক্ষেত্রে মূলত জ্বর আসে আর গায়ে ছোট-ছোট লাল র্যাশ বেরোয়। কনজাংটিভাল কনজেশন দেখা দেয়, নাক থেকে জল পড়তে থাকে। এর সঙ্গে বা পরে নিউমোনিয়া হলে এ রোগে জটিলতা বাড়তে পারে। রুবেলা যন্ত্রণাদায়ক। রোগটির চিকিৎসা সঠিক সময়ে না হলে ছোটদের হার্টের সমস্যা হতে পারে। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন যদি মায়ের রুবেলা হয়, তা হলে গর্ভস্থ শিশুর কনজেনিটাল রুবেলা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কনজেনিটাল ক্যাটারাক্টও হতে পারে অর্থাৎ চোখে ছানি নিয়েই সন্তান জন্মাতে পারে। তাই অনেক সময়েই গর্ভধারণের আগেই হবু মায়েদের রুবেলার টিকা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
রুবেলার টিকা জরুরি
হামের মতোই রুবেলাও প্রতিরোধ করার টিকা রয়েছে। সন্তানের বয়স ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হলে তারা এই প্রতিষেধক নিতে পারবে। সাধারণত শিশুর ন’মাস, পনেরো মাস ও পাঁচ বছর বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়। এখন সরকারের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচি চলছে, তাতে এই টিকার বুস্টার ডোজ়ও দেওয়া হচ্ছে।
ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রুবেলার কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক নেই।তাই জ্বর ও সারা গায়ে র্যাশ বেরোলে চিকিৎসকের কাছেই যেতে হবে। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে বিপদ আরও বাড়বে।