রোগ সারাতে শুধু ওষুধ নয়, পথ্যও জরুরি। বা বলা ভাল, খাবারই যখন ওষুধ। জীবনধারার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে যে সব অসুখ সেগুলির নিরাময়ে শুধু ট্যাবলেট নয়, পথ্যেরও খোঁজ করছেন গবেষকেরা। বিশ্ব জুড়েই চলছে এই প্রয়াস যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফুড অ্যাজ় মেডিসিন’ (এফএএম)। স্থূলত্ব, ডায়াবিটিস, ফ্যাটি লিভার— এগুলি জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত অসুখ। তেমনই আরও একটি রোগ হল প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন। শরীরের ভিতরে প্রদাহ বাড়লে নানা অসুখের জন্ম হয়। স্থূলত্বের কারণও হতে পারে এই প্রদাহই। সে কারণে প্রদাহ নাশ করতে পারে, এমন সব ওষুধ ও পথ্য নিয়ে গবেষণা চলছে ইদানীংকালে। জাপানের টোকিয়ো ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এমন এক পথ্যের খোঁজ পেয়েছেন যা প্রদাহ নাশ তো করতেই পারবে, সেই সঙ্গে আরও অনেক জটিল ব্যাধির নিরাময়ও করতে পারবে।
টোকিয়ো ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানাচ্ছেন, হলুদ, আদা, পুদিনা বা লঙ্কার প্রদাহনাশক গুণ আছে। তেমনই আরও একটি হল ইউক্যালিপটাস। পুদিনায় আছে মেন্থল, ইউক্যালিপটাসে সিনেওল, লঙ্কায় ক্যাপসাইসিন ও আদায় ইউডেসমল। এই উপাদানগুলির প্রতিটির প্রদাহনাশক গুণ আছে। এগুলি আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। যদি এই উপাদানগুলি একত্রে মিশিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে এই সম্মিলিত প্রভাব শরীরের প্রদাহ নাশ যেমন করবে, তেমনই শক্তির জোগানও দেবে।
আরও পড়ুন:
গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, পুদিনার মেন্থল ও ইউক্যালিপটাসের সিনেওল একত্রিত হলে তা ক্যালশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে। আবার লঙ্কার ক্যাপসাইসিন ও আদার ইউডেসমল মিলে গেলে শরীরের প্রতিরোধী কোষগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিপাকহারও বাড়ে। ওষুধ খেয়ে কাজ যতটা হয়, তার চেয়ে ঢের বেশি কাজ হয় এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলিতে। সে কারণে প্রদাহজনিত অসুখ বা পেশি শক্তি বৃদ্ধি করতে বা ওজন কমাতে ওষুধের চেয়ে বেশি কার্যকরী হতে পারে এইসব পথ্যই। শুধু কী ভাবে সেগুলি খেতে হবে, কী পরিমাণে খেলে কাজ হবে, তা নিয়েই গবেষণা চলছে।
এ দেশের রন্ধনশৈলীতে হলুদ, লঙ্কা, আদা, পুদিনার ব্যবহার বহুকাল থেকেই হয়ে আসছে। এর নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। এগুলি পরিমাপ মতো খেলে তবেই হজমপ্রক্রিয়া ঠিক মতো হয়, শরীরের শক্তিও বাড়ে। জাপানি গবেষকেরা এই সারসত্য জেনে সে সব পথ্যকেই রোগ নিরাময়ের উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।