Advertisement
E-Paper

গরম পড়তেই ঘরে ঘরে জ্বর, পেটের সমস্যায় ভুগছে শিশুরা, কেন হচ্ছে অসুখ? কী কী সতর্কতা নেবেন?

মরসুম বদলের সময়ে সর্দিকাশি, জ্বর ঘরে ঘরেই হয়। তবে এ বার আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। যদি দেখা যায় জ্বর তিন দিনের বেশি রয়েছে তা হলে কিছু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। আর শুরু থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৪
Seasonal Flu and Gastric Issues in Children, what are the causes and treatments

কেন জ্বর, পেটের রোগ হচ্ছে এত, কারণটা কী? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

গরম পড়তেই ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। শিশু থেকে মাঝবয়সি, বয়স্ক, সকলকেই কাবু করছে এই জ্বর। তিন দিনেও তাপমাত্রা নামছে না অনেকের। বিশেষ করে শিশুদের জ্বরের সঙ্গে পেটের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে, চিকিৎসকের চেম্বারেও। মরসুম বদলের সময়ে জ্বর, ডায়েরিয়ার প্রকোপ বাড়েই। তবে এ বার আক্রান্তের সংখ্যা খানিক বেশি বলেই জানালেন চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার, তাঁর মতে, খামখেয়ালি আবহাওয়ায় একাধিক ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। আগে কেবল অ্যাডিনোভাইরাসের হানায় জ্বর বা সর্দি-কাশির সমস্যা হত। এখন এই অ্যাডিনোভাইরাসও চরিত্র বদলেছে। সঙ্গে রোটাভাইরাস, নোরোভাইরাসের সংক্রমণে জ্বরের সঙ্গে ডায়েরিয়া বা পেটের সমস্যাও ভোগাচ্ছে। পাঁচ বছরের নীচে শিশু ও বয়স্কেরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।

কেন হচ্ছে এত জ্বর?

তাপমাত্রা কখনও বেশি, আবার কখনও কম। তার মধ্যে ঝড়বৃষ্টি হলে বাতাসে আর্দ্রতাও হঠৎ করে বেড়ে যাচ্ছে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিই জীবাণুদের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল। এমনই জানালেন চিকিৎসক। আগে শীতের সময় এলেই ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ভোগাত। কিন্ত এখন বসন্তের শেষ ও গরম পড়ার এই সন্ধিক্ষণে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরও বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। এর এখন একটি বা দু’টি উপরূপ নেই, বেশ কিছু উপরূপ চলে এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণেও জ্বর ও কাশির সমস্যা ভোগাচ্ছে। সেই সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, যেমন, শ্বাসকষ্ট, গলায় ব্যথা থেকে ফ্যারেঞ্জাইটিসের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, গাঁটে গাঁটে ব্যথাও ভোগাচ্ছে। শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিচ্ছে অনেকের। সেই সঙ্গেই বমি ভাব, ডায়েরিয়া, মুখের ভিতর শুকিয়ে যাওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব হচ্ছে। চোখ ফুলে যাচ্ছে, প্রচণ্ড ক্লান্তি ভাব দেখা দিচ্ছে।

Advertisement

দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় বুক ধড়ফড় করা, নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিচ্ছে অনেকের। তেমন হলে ফেলে রাখা ঠিক হবে না। আবার গুরুতর ভাবে অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্ত হলে গলা ও ঘাড়ের চারদিকের গ্ল্যান্ড ফুলে যেতে পারে। সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হবে। রাইনোভাইরাস নাক দিয়ে ঢোকে। এর সংক্রমণ হলে গলা ব্যথা, ঢোঁক গিলতে না পারা, শুকনো কাশি ভোগাতে পারে।

বাব-মায়েরা কী কী সতর্কতা নেবেন?

জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। ১০৪ ডিগ্রি অবধি তাপমাত্রা উঠতে দেখা যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর সাধারণ ২-৩ দিন থাকে, বারে বারেই ধুম জ্বর আসতে পারে। কিন্তু চার থেকে পাঁচ দিন পরেও জ্বর না কমলে সতর্ক হতে হবে।

জ্বরের কারণ ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া না অন্য কিছু তা বঝুতে কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে, যেমন— সিবিসি রক্তের পরীক্ষা, সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট, এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট, টাইফয়েড হয়েছে কি না বঝতে ব্লাড কালচার করাতে হবে, জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি, বুকে ব্যথা হলে চেস্ট এক্স-রে করিয়ে নিতে হবে।

নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে হিতে বিপরীত হবে। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। আর প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল খাবার খেতে হবে। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই ভাল।

Viral fever Diarrhea stomach pain pneumonia Influenza
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy