পুজো-পার্বণে ব্রত পালন করলে উপোস করার প্রথা রয়েছে এ দেশে। সেই উপোসের নানা রকমফের আছে। এমনিতে পুজোর জন্য ব্রত পালন করলে মাছ-মাংস-ডিম তো বটেই, পেঁয়াজ-রসুনও খাওয়া হয় না। তার বাইরে যাঁরা অল্প খেয়ে উপোস করেন, তাঁদের অনেকে ভাত বা চাল থেকে তৈরি খাবার খান না। কেউ আবার কোনও খাবারই খান না। অনেকে আবার উপোস করলে এক ফোঁটা জলও মুখে দিতে নারাজ। মানুষ নানা বিশ্বাসে নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে বিজ্ঞান বলছে, সারা দিন না খেয়ে থাকা পেটের জন্য উপকারী হলেও জল না খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।
জল না খেয়ে উপোস কেন ক্ষতিকর?
১. ডিহাইড্রেশন বা জলাভাব
শরীরের কোষ, মস্তিষ্ক এবং রক্ত সঞ্চালনের জন্য জল অপরিহার্য। জল না খেলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে, যার ফলে তীব্র মাথাব্যথা এবং মাথা ঘোরা শুরু হয়। রক্তচাপ হঠাৎ কমে গিয়ে অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।
২. কিডনির উপর চাপ
কিডনির কাজ শরীর থেকে বর্জ্য বার করে দেওয়া। এই প্রক্রিয়ার জন্য জল প্রয়োজন। জল না খেলে প্রস্রাব কমে যায় এবং টক্সিন বা বর্জ্য শরীরে জমতে থাকে। ফলে কিডনিতে স্টোনের ঝুঁকি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
৩. ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা
শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য থাকে। জল না খেলে এই ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা থেকে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
৪. বিপাক প্রক্রিয়ায় বাধা
খাবার না খেয়ে উপোস করলে শরীর চর্বি ভেঙে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাড় করে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার জন্যও জলের প্রয়োজন। জল না খেলে ওই প্রক্রিয়া থেকে শরীরের ভেতর এক ধরনের বিষক্রিয়াও তৈরি হতে পারে।