হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা হয় বয়সকালে, এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বার বার। বাইরে থেকে তরতাজা দেখায় এমন তরুণদের আচমকা হার্ট অ্যাটাকে প্রাণ যাচ্ছে। হার্টের অসুখ এখন হচ্ছে কমবয়সিদের মধ্যেও, তা নিয়েই উদ্বিগ্ন চিকিৎসকমহল।
কিন্তু কেন অল্প বয়সেও হৃদরোগের প্রবণতা বাড়ছে, তা নিয়েও তৈরি হচ্ছে প্রশ্ন। ধূমপান, মদ্যপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের অভ্যাসকেই প্রাথমিক ভাবে দায়ী করা হচ্ছে। তা ছাড়া, এই সবের ফলে বাড়তে থাকা উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবিটিসও নিশ্চিত ভাবেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:
তবে শুধু চেনা কারণ নয়, রোজের এক সাধারণ অভ্যাসই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে পারে, বলছেন চিকিৎসক সঞ্জয় ভোজরাজ। ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী চিকিৎসক জানাচ্ছেন, হার্ট ভাল রাখতে সঠিক ডায়েট, ধূমপান ছাড়ার দিকে মনোনিবেশ করেন অনেকে, তবে চোখের আড়ালে থেকে যায় একটি সাধারণ অভ্যাস। তা হল একটানা একই ভাবে বসে থাকা, কায়িক শ্রমহীন যাপন।
বর্তমানে কাজের ধরনে বদল এসেছে। বহু পেশাতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা বসে কাজ করতে হয়। মাথা ঘামিয়ে কাজ করতে হলেও, বহু পেশাতেই কায়িক শ্রম তেমন থাকে না। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থের গবেষণা বলছে, দীর্ঘ ক্ষণ এক ভাবে বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ, অনেকেই শরীরচর্চা দূরের কথা, নিয়মিত হাঁটাহাটিও করেন না। তার উপর দীর্ঘ ক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকাতেই বিপদ আরও বাড়ে। কারণ, একটানা বসে থাকলে অঙ্গ সঞ্চালন হয় না, শরীরে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। তার ফলেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে, হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
শরীরচর্চা জরুরি কেন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র রিপোর্টে প্রকাশ, যে সব মানুষ একেবারেই শরীরচর্চা করেন না, তাঁদের রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্তত ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। কায়িক শ্রম না করার ফলে ওজন বাড়তে থাকে। স্থূলত্ব, হাইপারটেনশন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
কী করণীয়
হার্ট ভাল রাখতে প্রত্যেককে যে জিমেই ছুটতে হবে এমন নয়। ব্যস্ত জীবনেও একটু সময় বার করে হাঁটাহাটির পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। মিনিট পাঁচেক সময় বার করে, কয়েকটি স্কোয়াট (পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে চেয়ারে বসার ভঙ্গিমা) করলেও শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে।
· যাঁদের একটানা বসে কাজ, তাঁরা মাঝেমধ্যে হাত-পা টান টান করে নিতে পারেন বা সুযোগ মতো স্ট্রেচিং করতে পারেন।
· প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অন্তর মিনিট পাঁচেক হেঁটে নিলেও শরীর ভাল থাকবে। রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকবে। কাজের জন্য যদি ফোনে কথা বলতে হয়, সেই সময় পায়চারি করে কথা বলতে পারেন।
· খাওয়ার পরে একটু হেঁটে নিলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে, খাবারও দ্রুত হজম হয়। খাওয়ার পরে অন্তত মিনিট পাঁচেক পায়চারি করলে ভাল।
· অফিস যাওয়ার সময় বা ফেরার সময় কিছুটা দূরত্ব হেঁটে যাতায়াত করতে পারেন।