হাতের রেখার মাধ্যমে যে কোনও মানুষের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দেওয়া যায়। জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে তালুতে এমন প্রচুর চিহ্ন থাকে যা দেখে মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যেতে পারে। ঠিক তেমনই হাতের আঙুল দিয়ে জাতক-জাতিকাদের সম্পর্কে তাঁদের ভাগ্য, চরিত্রের অনেকটাই বর্ণনা দেওয়া যায়। সাধারণত বেশির ভাগ মানুষের প্রতিটি হাত ও পায়ে পাঁচটি করে আঙুল থাকে। তবে কারও কারও হাতে বা পায়ে একটি করে অতিরিক্ত আঙুল থাকে। অভিনেতা হৃতিক রোশনের হাতে রয়েছে অতিরিক্ত আঙুল। যিনি তাঁর প্রথম ছবিতেই রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন। দেহের এই বাড়তি অঙ্গের উপস্থিতি কি বিশেষ তাৎপর্য বয়ে আনে? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
ভবিষ্যৎ বলার অনেক পদ্ধতি আছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে পারদর্শী যাঁরা, তাঁরা যে কোনও ব্যক্তির মুখের গড়ন, শারীরিক ভাষা এবং আচরণ নির্ভুল ভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন। সামুদ্রিক শাস্ত্র কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব সম্পর্কিত অনেক রহস্য উন্মোচন করে। সাধারণত, প্রতিটি মানুষের হাতে পাঁচটি আঙুল থাকে— বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা এবং কনিষ্ঠা। অনেকে একটি অতিরিক্ত ষষ্ঠ আঙুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও এই সংখ্যাটি খুবই নগণ্য। হাতে অতিরিক্ত ষষ্ঠ আঙুলের অবস্থান দ্বিমুখী হতে পারে। একটি কনিষ্ঠার পাশে, এবং অন্যটি বৃদ্ধাঙ্গুলির যমজ হিসাবে।
সমুদ্রশাস্ত্রে একটি অতিরিক্ত আঙুলকে সৌভাগ্যের চিহ্ন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে মতে, যে ব্যক্তি ষষ্ঠ আঙুলের অধিকারী হন তাঁরা তন্ত্র ও গুপ্ত চর্চায় পারদর্শী হতে পারেন। ষষ্ঠ আঙুলটি যদি কনিষ্ঠার পাশে থাকে তবে সেই জাতক অন্যদের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ, ধুরন্ধর হন। কূটনীতি বিষয়ে অন্যদের টেক্কা দিতে পারদর্শী। তবে এমন ব্যক্তি জীবনে কোনও লক্ষ্য স্থির করতে পারেন না। প্রায়শই তাঁদের চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। জ্যোতিষীরা মনে করেন তাঁদের মনের ভাব ও আচরণ বোঝা স্বয়ং শিবেরও অসাধ্য।
যদি ষষ্ঠ আঙুলটি বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশে থাকে তবে সেই ব্যক্তি স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে বহু গুণ বেশি বিচক্ষণ হন। একই সঙ্গে বিচক্ষণতার অপব্যবহারও এই ষষ্ঠ বৃদ্ধাঙ্গুলির একটি বৈশিষ্ট্য। যাঁরা ছ’টি আঙুলের অধিকারী হন, তাঁদের সৌন্দর্য নজরে পড়ার মতো হয়। এঁরা সুশ্রী হন। মুখশ্রী সুন্দর হয়। এক কথায় এঁদের চেহারায় একটা আলাদা আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়।