এ বার গরমে অনেক আগেই বাজারে উঠে গিয়েছে জাম। এমনিতে নুন মাখিয়ে জাম খেতে ভালই লাগে। তবে অন্য নানা ফলের রসের মতো জামের রস দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন শরবত। গরমে তা যেমন ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করবে, তেমনই শরীরের নানা উপকারেও লাগবে।
জামের শরবত খাওয়ার ৫টি উপকারিতা
১. হজমশক্তি বৃদ্ধি: জামে থাকা ডায়েটারি ফাইবার পরিপাকতন্ত্রকে
সক্রিয় রাখে। এই শরবতে থাকা বিটনুন ও জামের প্রাকৃতিক উপাদান অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
২. ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে: জামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম, যা অন্যান্য ফলের রসের থেকে আলাদা। জামে থাকা ‘জাম্বোলিন’ নামের উপাদান স্টার্চকে চিনিতে রূপান্তরিত হতে দেয় না, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি দারুণ কার্যকরী।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: কালো জাম ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ সর্দি-কাশি ও ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে।
৪. ত্বক ও চোখের জন্য উপকারী: এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে, যা ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে এবং বার্ধক্যের ছাপ দূর করে। একই সাথে এটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতেও সাহায্য করে।
কী ভাবে বানাবেন?
উপকরণ:
১ কাপ পাকা কালো জাম (বীজ ছাড়ানো)
২ টেবিল চামচ চিনি বা মধু (স্বাদমতো)
১/২ চা চামচ বিটনুন
১/৪ চা চামচ গোলমরিচগুঁড়ো
১ টেবিল চামচ লেবুর রস
৩-৪টি পুদিনা পাতা
২ গ্লাস ঠাণ্ডা জল
প্রয়োজন মতো বরফ কুচি
প্রণালী:
১. প্রথমে জামগুলো ভাল করে ধুয়ে নিন। এরপর হাত দিয়ে চটকে বা ছুরি
দিয়ে কেটে জামের বীজগুলো আলাদা করে ফেলুন।
২. একটি ব্লেন্ডারে বীজ ছাড়ানো জাম, চিনি/মধু, বিট নুন, গোলমরিচগুঁড়ো, লেবুর রস, পুদিনা পাতা এবং সামান্য জল দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।
৩. মিশ্রণটি মসৃণ হয়ে গেলে বাকি ঠাণ্ডা জলটুকু দিয়ে আরও একবার ব্লেন্ড
করুন।
৪. এবার একটি ছাঁকনি দিয়ে শরবতটি ছেঁকে নিন ।
৫. গ্লাসে বরফকুচি দিয়ে উপর থেকে শরবত ঢেলে দিন। উপরে একটি পুদিনাপাতা ও লেবুর স্লাইস দিয়ে সাজিয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করুন।