গরমকালে একটু বেশি খেলেই যেমন শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়, শীতে যেন ঠিক উল্টো। রকমারি শাকসব্জি, কবাব থেকে তন্দুর—এই মরসুম যেন খাওয়ারই সময়। পিঠে-পুলি, কেক-পেস্ট্রি, কচুরি-তরকারি— শীতকালে কোনওটাকেই যেন না করা যায় না। তার উপর আজ পিকনিক তো কাল পার্টি— এ তো লেগেই রয়েছে শীত জুড়ে। আর বেশি বেশি খাওয়ার ফলে, যা হওয়ার তা-ই হয়। বেড়ে যায় ওজন। পেটের মেদ বাড়তে শুরু করে। নতুন বছরে রোগা হওয়ার যে প্রতিজ্ঞা মনে মনে করেছিলেন, শীতের বাহারি ভোজ চোখের সামনে এলেই যেন সবটা গোলমাল হয়ে যায়। শীতের দিনে খাই খাই ভাব কমাবেন কী করে? চারটি কৌশল শেখালেন পুষ্টিবিদ মঞ্জিরা সান্যাল।
১) বেশি করে প্রোটিন খান: রোজের ডায়েটে বেশি করে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, বিভিন্ন প্রকার বীজ এবং কম ফ্যাট বা চর্বি আছে এমন মাছ-মাংস(লিন মিট) যোগ করুন। প্রোটিন হজম হতে বেশি সময় নেয়। তাই পেট অনেক ক্ষণ ভর্তি থাকে। তাই ভাজাভুজি, তেলমশলাদার খাবার দেখলেও খেতে ইচ্ছে করবে না।
২) বেশি করে জল খেতে হবে: অনেক সময় জল তেষ্টা পেলেও খিদে পেয়েছে মনে হয়। তৃষ্ণাও অনেক সময় ক্ষুধার অনুভূতি জাগায়। শীতকালে জল খাওয়া কম হয়, তাই খাওয়ার ইচ্ছেও বেড়ে যায়। তাই শীতের দিনে খাই খাই ভাব কমাতে শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে হবে। বেশি করে জল খেতে হবে।
৩) সঠিক খাবার সঠিক সময়ে খান: শীতের দিনে দু’টি খাবারের মাঝে খুব বেশি ব্যবধান রাখা চলবে না। জলখাবার না খেয়ে সোজা দুপুরের খাবার খেতে বসলেন, এমন ভুল করবেন না। খালি পেটে দীর্ঘ ক্ষণ থাকলে যখনই খেতে বসবেন, তখন অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যাবে। তাই সময়ের খাবার সময়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৪) পর্যাপ্ত সময় ঘুমোন: শীতের দিনে রাত জেগে পার্টি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা একটু বেশি হয়, ফলে ঘুম হয় না ঠিক মতো। ঘুম কম হলে কিন্তু শরীরে ‘হাঙ্গার হরমোন’ বা ঘ্রেলিনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। তাই বেশি করে খিদে পায়। খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রতি দিন নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে।