গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরিয়েছেন। হঠাৎই প্রস্রাবের বেগ। অথচ তার কিছু ক্ষণ আগেই প্রস্রাব করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই পড়েন। ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসার অন্যতম কারণ হল ডায়াবিটিস। রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক বেড়ে গেলে কি়ডনির উপর বেশি চাপ পড়ে। অতিরিক্ত গ্লুকোজ় শরীর থেকে বার করে দেওয়ার জন্য কিডনিকে বেশি কাজ করতে হয়। প্রস্রাবের মাত্রা সে ক্ষেত্রে অনেকটাই বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত তেষ্টা পায়, ওজন কমে যায়, ক্লান্তি বাড়ে, খিদে বেড়ে যায় বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। অনেকেই শুরুতে এই লক্ষণগুলিকে উপেক্ষা করেন এবং মনে করেন যে মানসিক চাপ বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের কারণেই এমনটা হচ্ছে।
তবে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কি কিডনির অসুখের ইঙ্গিত করে?
ডায়াবেটিক রোগীর কখনও কখনও ঘণ্টায় ৪-৫ বারও প্রস্রাবের বেগ আসে। তবে সব ক্ষেত্রেই যে কিডনি খারাপ হয়েছে ভাবার কোনও কারণ নেই, এমনটাই মত মুম্বইনিবাসী চিকিৎসক বিজয় নেগালুর। তিনি বলেন, ‘‘কিডনির রোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। তবে, কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকলে প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যান্য সতর্কতামূলক লক্ষণগুলির মধ্যে থাকতে পারে পায়ে বা মুখে ফোলাভাব, ক্রমাগত ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য, উচ্চ রক্তচাপ বা ফেনাযুক্ত প্রস্রাব। শুধুমাত্র ঘন ঘন প্রস্রাব কিডনি রোগ নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়, তবে এমন চলতে থাকলে বিষয়টিকে ফেলে না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।’’
আর কোন কোন কারণে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসে?
চিকিৎসক বিজয়ের মতে, মূত্রনালির সংক্রমণ, মূত্রথলির অতিসক্রিয়তা, পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, উদ্বেগ, অতিরিক্ত তরল পান এবং ডাইউরেটিক্সের মতো কিছু ওষুধের কারণে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্তঃসত্ত্বারাও এই সমস্যায় ভোগেন। কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা সাময়িক হতে পারে এবং এর চিকিৎসা করাও সহজ।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা যদি কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় অথবা এর পাশাপাশি অতিরিক্ত তৃষ্ণা, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বেরোনো কিংবা শরীরের কোনও অংশ ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের মতে, ডায়াবিটিস থাকলে প্রতি ছ’মাস অন্তর কিডনি ফাংশন টেস্ট করানো জরুরি। আগেভাগে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসার পদ্ধতি অনেক সহজ হয়ে যায়।