সুস্থ থাকতে হলে জল খাওয়া জরুরি। আর তা নিয়েই যত আলোচনা। সমাজমাধ্যম থেকে অফিসের আড্ডায় প্রায়ই উঠে আসে জল খাওয়ার গল্প। কেউ পাইপ দেওয়া ঢাউস টাম্বলার বা গামলার মতো বোতল নিয়ে অফিসে হাজির হন দিনের জল খাওয়া ঠিক রাখতে। কত লিটার জল খাচ্ছেন মাপার জন্য কোনও কোনও বোতলে এখন পরিমাপ সূচকও ছেপে দেওয়া হয়।
শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদন করতে জল খাওয়া জরুরি। গরমে ঘাম বেশি হলে জলের মাত্রাও বাড়াতে হবে। কিন্ত তা বলে দিনে লিটার লিটার জল খেলেই কি শরীর ভাল থাকবে? জয়পুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ইউরোলজির চিকিৎসক উদয় সিংহ বেনিওয়াল সতর্ক করলেন বেশি জল খাওয়া নিয়েই। কারণ, জল বেশি খেলে চাপ পড়বে কিডনির উপরে। চিকিৎসকেরা বলছেন, কতটা জল খেতে হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তিবিশেষের ওজন, উচ্চতা এবং কায়িক শ্রমের উপরে।
আরও পড়ুন:
বেশি জলে বিপদ কেন?
জল বেশি খেলে শরীরে থাকা সোডিয়াম জলে মিশে পাতলা হয়ে যায়। প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়েও যায়। স্নায়ুর কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সোডিয়াম জরুরি। সোডিয়ামের মাত্রার হেরফের হলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়বে। বেশি জল খাওয়ার ফলে উল্টে বিপত্তি বাধবে, মনে করাচ্ছেন চিকিৎসক।
কী কী হতে পারে
বমিভাব, ক্লান্তি, মাথা ধরা, পেশিতে খিঁচুনি, দুর্বল বোধ করা
বিপদ কাদের ক্ষেত্রে
· খেলাধুলা, শারীরচর্চাকারীরা তেষ্টা না পেলেও, শরীর সুস্থ রাখতে জল খান। বিপদ হতে পারে তাঁদের।
· কেউ লক্ষ্য স্থির করেন সারা দিনে ৮-১০ গ্লাস জল খেতেই হবে। জলের মাত্রা মরসুম, কায়িক শ্রম, ওজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা দরকার। গ্লাসের মাপে নয়।
· অফিসে যাঁরা জল খাওয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত নিয়মনিষ্ঠ।
চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, জলের দরকার হলে ইঙ্গিত দেয় শরীর। তেষ্টা পায়। রোদে ঘুরলে তেষ্টার মাত্রাও বাড়ে। কিন্তু সেই সঙ্কেত অগ্রাহ্য করে কোনও নির্দিষ্ট ধারণার বশবর্তী হয়ে বোতল বোতল জল খেলে সমস্যাও হতে পারে।
কতটা জল খাওয়া দরকার
একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তি দিনে ৩ থেকে ৪ লিটার জল খেতে পারেন। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে তিনি কোন পরিবেশে রয়েছেন, সারা দিনে আর কী কী খাচ্ছেন। কেউ যদি তরল খাবার বেশি খান, ফল খান, তা হলে এই পরিমাণ জল অতিরিক্তও হতে পারে।