ভারতীয় মহিলাদের স্তন ক্যানসারের মতো জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকিও প্রবল। এই ক্যানসার মূলত হিউমান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইপিভি) কারণে হয়। এই ভাইরাস দীর্ঘ দিন শরীরে থাকলে জরায়ুমুখের কোষে ধীরে ধীরে বদল আসতে শুরু করে। প্রথম দিকে কোনও উপসর্গ না থাকায় অনেক মহিলারই বুঝতে দেরি হয়। যখন শনাক্ত করা যায়, তখন গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যায় রোগটি। চিকিৎসকদের মতে, এই ক্যানসার থেকে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে হলে সচেতনতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
জরায়ুমুখের ক্যানসার মূলত হিউমান প্যাপিলোমা ভাইরাসের কারণে হয়। ছবি: সংগৃহীত।
ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় তাই নির্দিষ্ট টিকার বিষয়ে সচেতন করতে চান মহিলাদের। নির্দিষ্ট এই ক্যানসার টিকার সাহায্যে রোধ করা যেতে পারে। জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়ই হল নির্দিষ্ট বয়সে এই টিকা নেওয়া। এই টিকা শরীরকে আগে থেকেই ভাইরাস চিনে নিতে শেখায়, ফলে ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘জরায়ুমুখের ক্যানসার বা সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের মূল কারণই হল হিউমান প্যাপিলোমা ভাইরাস। আমরা এইচপিভি টিকা দিয়ে এই ভাইরাল সংক্রমণকে রোধ করতে পারি। তাই এই ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে যায়। এই টিকা ছেলেদেরও দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়তে পারে।’’
কোন বয়সের মধ্যে এই টিকা দেওয়া উচিত?
কিশোরী বয়স থেকেই এই টিকা নেওয়া সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ বলে মনে করেন চিকিৎসক। ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ২টি ডোজ় নেওয়ার পরামর্শ তাঁর। যাঁদের বয়স ১৫ বছর ছাড়িয়ে গিয়েছে, তাঁরা ৩টি ডোজ় নিতে পারেন। সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘যদি শিশুরোগচিকিৎসক বা স্ত্রীরোগচিকিৎসক আপনাকে বা আপনার সন্তানকে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন, তা হলে সেটি উপেক্ষা করবেন না।’’
আরও পড়ুন:
এই টিকার খরচ কত?
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, ১৫ বছরের নীচের টিকার খরচ নির্ভর করে নানা কিছুর উপর। তবে সরকারের সাম্প্রতিকতম বাজেট অনুযায়ী, ১৫ বছরের কমে যাঁরা এই টিকা নিচ্ছেন, তাঁদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ বিনামূল্যে এই টিকা নেওয়া যায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসক।