কাপড় ধোয়ার যন্ত্র বা ওয়াশিং মেশিনের ব্যবহার এখন ঘরে ঘরে। সময় বাঁচে, পরিশ্রমও কমে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই যন্ত্র সঠিক ভাবে পরিষ্কার না করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। পরিষ্কার কাপড়ের বদলে তখন অজান্তেই জীবাণু, ছত্রাক আর দুর্গন্ধ শরীরের সংস্পর্শে চলে আসে। এক-দু’টি বোতাম টিপেই সমস্ত ধুলোময়লা দূর করা যায় না। আপাত ভাবে মেশিনের ড্রামও পরিষ্কার মনে হবে, ধোয়া কাপড়ও সাফসুতরো মনে হবে। কিন্তু কখনও রবারের সিল বা সাবানের ড্রয়ার খুলে দেখলে টের পাওয়া যাবে, নীরবে জীবাণুর বাসা তৈরি হয়েছে যন্ত্রে!
ঠান্ডা জল দিয়ে কাপড় ধোয়ার পর সাধারণত সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার ফলে ভিতরে সব সময়ই জল আর আর্দ্রতা জমে থাকে। এই ভেজা ভেজা পরিবেশেই সহজে জন্ম নেয় ছত্রাক আর ক্ষতিকর জীবাণু। সেই জীবাণু কাপড়ের সঙ্গে লেগে ত্বকে চুলকানি, র্যাশ, শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই শুধু কাপড় ধুয়ে নিলেই দায়িত্ব শেষ নয়, যন্ত্রের যত্নও জরুরি।
কাপড় ধোয়ার যন্ত্র কী ভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে? ছবি: সংগৃহীত।
কাপড় ধোয়ার যন্ত্র কী ভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?
ওয়াশিং মেশিন খুলে জামাকাপড় ভরে দেন আপনি। তার পর সাবান দিয়ে বোতাম টিপে যন্ত্র চালু করে দেন। তাতে জল ভরে, ড্রাম ঘোরে, জল বেরোয়, শুকনো করার জন্য ফের ড্রাম ঘোরে, তার পর যন্ত্র খুলে কাপড় বার করে আপনি যন্ত্রের ঢাকনা বন্ধ করে দেন। ফলে কাপড়ের সুতো, উলের অবশিষ্টাংশ, ঘাম, ময়লা সবই মেশিনের ভিতরে ঘুরতে থাকে। কিন্তু জীবাণু মরে না। পরের বার নতুন কাপড় যোগ হয়, একই পদ্ধতিতে মেশিন চলে। আরও জীবাণু যোগ হয়। কয়েক সপ্তাহ বা মাসখানেক পর একটি আস্তরণ তৈরি হয় যন্ত্রের ভিতর, যেখানে জীবাণু বাসা বাঁধা শুরু করে। সব সময়েই যে এই সব জীবাণু থেকে ক্ষতি হবে, তা নয়। কিন্তু এগজ়িমা থাকলে বা আঘাত লাগলে, জীবাণুর সংস্পর্শে ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে।
তবে কয়েকটি সহজ কৌশল মানলে এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব—
১. ঢাকনার চারপাশের রবারের অংশ আর ভিতরের ড্রামের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। কাপড় ধোয়ার পর এখানে জল, ময়লা আর সাবানের আস্তরণ জমে থাকে। নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে এই জায়গাগুলি মুছলে ছত্রাক জমার ঝুঁকি কমে। ধোয়া শেষ হলে কিছু ক্ষণ ঢাকনা খোলা রেখে দিলে ভিতরে আর্দ্রতা জমে থাকার সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে।
২. সম্ভব হলে মাঝেমধ্যে ঠান্ডার বদলে গরম জলে মেশিন চালানো উচিত। মাসে এক বা দু’বার খালি যন্ত্র গরম জল দিয়ে ধুলেও উপকার মেলে। এর ফলে ভিতরে জমে থাকা ময়লা, দুর্গন্ধ আর জীবাণু অনেক পরিমাণে কমে যায়।
৩. সাবানের ড্রয়ার আর ময়লা জমার ছাঁকনির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এই অংশগুলিতে সাবান ও ময়লা জমে শক্ত হয়ে যায়। এই জমে থাকা ময়লা থেকেই বাজে গন্ধ আর জীবাণুর জন্ম হয়। নিয়মিত এই অংশগুলি খুলে জল দিয়ে পরিষ্কার করলে কাপড়ও ভাল ভাবে পরিষ্কার হয়, যন্ত্রও দীর্ঘদিন টেকসই থাকে।