Advertisement
E-Paper

কিডনির রোগ জব্দ হবে ডায়ালিসিস, প্রতিস্থাপন ছাড়াই, নতুন ‘ডিজিটাল টুইন’ মডেল নিয়ে গবেষণা ভারতেও

কিডনি বিকল হলে রোগীর প্রাণসংশয় হবে না। আগে থেকেই রোগের ধরন বুঝে চিকিৎসা শুরু হবে। ‘ডিজিটাল টুইন’ মডেল নিয়ে গবেষণা চলছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৫
What is Digital twin model for managing Chronic Kidney Disease

কিডনির রোগে মৃত্যুহার কমবে, কী এই ডিজিটাল টুইন মডেল? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কিডনির রোগ বড়ই বিপজ্জনক। কিডনিতে পাথর হলেই আতঙ্ক বাড়ে। সে জায়গায় কিডনির জটিল রোগ বা কিডনি বিকল হওয়ার উপক্রম হলে তো কথাই নেই। এক বার কিডনি বিগড়ে গেলে, তাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। তখন প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। আর কিডনি প্রতিস্থাপন মানেই তা ঝুঁকিপূর্ণ। সফল না হলে প্রাণসংশয়ও হতে পারে। কিডনির রোগের নিরাময়ের পদ্ধতি নিয়ে বিশ্ব জুড়েই গবেষকেরা মাথা ঘামাচ্ছেন। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে নতুন এক থেরাপি নিয়ে গবেষণা চলছে ভারত ও আমেরিকায়। সেটি হল ‘ডিজিটাল-টুইন মডেল’। কম্পিউটার অ্য়ালগরিদ্‌মকে কাজে লাগিয়ে কিডনির জটিল থেকে জটিলতর রোগকে সারিয়ে তোলার এ এক নতুন প্রচেষ্টা।

কী এই ডিজিটাল-টুইন মডেল?

আমেরিকার স্ট্য়ানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া ও ভারতের দিল্লি আইআইটি এবং দিল্লি এমসের চিকিৎসকেরা এই মডেলটি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এমন এক ‘ভার্চুয়াল মডেল’ তৈরি করা হয়েছে, যা অবিকল আসল কিডনির মতো। রোগীর নানা রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে সেই রিপোর্ট নিয়ে এবং রোগীর শরীরের গঠন, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা দেখে সেই ডেটা থেকেই তৈরি করা হয়েছে আসল কিডনির অনুরূপ এক ডিজিটাল মডেল। একেই বলা হচ্ছে 'ডিজিটাল টুইন'। এটি কেবলমাত্র ত্রিমাত্রিক ছবি নয়, আসল কিডনির মতোই কাজ করবে সেটি। রোগীর রক্তচাপের হেরফের হলে, শরীরে হরমোনের বদল হলে বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আসল কিডনির উপর কী কী প্রভাব পড়তে পারে তার পূর্বাভাসও দিতে পারবে এই ডিজিটাল কিডনি।

সহজ করে বললে, রোগীর আসল কিডনিরই এক ডিজিটাল রূপ হল এই টুইন মডেল, যা পরিচালিত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা। কী কাজ করবে সেটি? চিকিৎসকেরা রোগীকে সরাসরি ওষুধ না দিয়ে ওই ডিজিটাল কিডনির উপর তা প্রয়োগ করবেন আগে। যে রোগীর কিডনি অকেজো হয়ে গিয়েছে বা ক্রনিক কিডনির রোগ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাঁর শরীরে ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি কী ভাবে কাজ করবে, তারই পরীক্ষা করা হবে ডিজিটাল কিডনির উপরে। চিকিৎসকেরা দেখবেন, ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের পদ্ধতিতে ভার্চুয়াল কিডনির ক্ষতি হচ্ছে কি না। যদি ফলাফল ভাল আসে, তবেই তা রোগীর উপর প্রয়োগ করা হবে। এতে প্রাণহানির ঝুঁকি কমবে।

থেরাপির লাভ কী?

কিডনি বিকল হতে শুরু করলে প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। সেই অস্ত্রোপচারও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ডিজিটাল মডেলে তার প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে কী কী জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা আছে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা আগে থেকেই সাবধান হয়ে যেতে পারবেন।

একই ওষুধ সকলের শরীরে সমান ভাবে কাজ করে না। ডিজিটাল টুইন মডেল প্রত্যেক রোগীর জন্য আলাদা হবে। সেই রোগীর শারীরিক অবস্থা থেকে তথ্য নিয়েই ডিজিটাল কিডনি তৈরি করা হবে। কাজেই, কোন ওষুধ কার শরীরে ভাল কাজ করছে তার পরীক্ষা ডিজিটাল কিডনির উপরেই করা সম্ভব হবে। ভুল ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

Kidney Disease Kidney Failure Artificial Intelligence
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy