Advertisement
E-Paper

কমবেশি সব শিশুই নিয়মিত করে! রোজের এক অভ্যাস অজান্তেই শিশুদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে

শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ খরলে অভিভাবকেরা সাধারণত ছোটদের রাস্তার ধারের খাবার খাওয়ার অভ্যাস, ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণে ভোগা, ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলি চিহ্নিত করেন। তবে খুব কম মানুষই আছেন, যাঁরা শিশুদের অত্যধিক স্ক্রিন টাইমের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৬
হৃদ্‌রোগ ঠেকাতে শিশুদের কোন অভ্যাসে বাবা-মায়েদের রাশ টানা জরুরি?

হৃদ্‌রোগ ঠেকাতে শিশুদের কোন অভ্যাসে বাবা-মায়েদের রাশ টানা জরুরি? ছবি: এআই।

হার্টের সমস্যা শুধু বড়দের নয়, শিশুদেরও হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে হৃদ্‌পিণ্ডের সমস্যা দু'প্রকারের হয়ে থাকে। প্রথমটি হল জন্মগত। আর দ্বিতীয়টি জন্মের পরে হওয়া সমস্যা। জন্মগত বা সায়ানোটিক সমস্যায় শুরু থেকেই চিকিৎসা হওয়া উচিত। আর নন সায়ানোটিকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর ওজন বাড়ছে না। খাওয়া কমে যাচ্ছে। খাওয়ার সময় শিশু ঘেমে যাচ্ছে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার উল্টোটাও হয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুর ওজন যদি বেড়ে যায়, স্থূলত্ব দেখা দেয় ছোট থেকেই, তা হলে তার হাত ধরেই ডায়াবিটিস, হার্টের রোগ দেখা দেয়। খাওয়াদাওয়ায় অত্যধিক অনিয়ম, সুষম খাবার না খাওয়া, খেলাধুলা না করার কারণে অনেক শিশুরই পেট-কোমরে মেদ জমতে থাকে ছোট থেকেই। খাবার খেলেও তা ঠিকমতো হজম হয় না। গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও দেখা দেয়। একে বলে ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’। এই সমস্যা দেখা দিলে পরবর্তী সময়ে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি আরও একটি অভ্যাসও কিন্তু অজান্তে শিশুর হৃদ‌্‌যন্ত্রের অনেক ক্ষতি করে দিচ্ছে, বাবা-মায়েরা এখন থেকেই সতর্ক না হলে বাড়তে পারে বিপদ।

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল শিশুদের শারীরিক কার্যকলাপ কমায় না, ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটায়।

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল শিশুদের শারীরিক কার্যকলাপ কমায় না, ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটায়। ছবি: সংগৃহীত।

শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে অভিভাবকেরা সাধারণত ছোটদের রাস্তার ধারের খাবার খাওয়ার অভ্যাস, ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণে ভোগা, ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলি চিহ্নিত করেন। তবে খুব কম মানুষই আছেন, যাঁরা শিশুদের অত্যধিক স্ক্রিন টাইমের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যাঁরা সেই বিষয় ভাবেনও তাঁরা মনে করেন স্ক্রিন টাইম বেশি হলে শিশুদের মানসিক সমস্যা শুরু হতে পারে, তবে এর থেকে যে হৃদ্‌রোগেও তারা আক্রান্ত হতে পারে, সে বিষয়ে অনেকেরই কোনও ধারণা নেই।

অ্যামেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, শিশুদের ক্ষেত্রে যত ঘন্টা স্ক্রিন টাইম বাড়ছে, কার্ডিয়োমেটাবলিক ঝুঁকিো সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে শিশুদের স্ক্রিনটাইম যত বেশি তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, কোমরের আকার বৃদ্ধি, কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং ইনসুলিনের রেসপন্স কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলির হার বৃদ্ধি পায়। এই সমস্ত উপসর্গ হার্টের অসুখের সঙ্গে পরোক্ষ ভাবে সম্পর্কিত।

চিকিৎসকদের মতে, যে শিশুরা কম ঘুমোয়, তাদেরও কিন্তু হৃদ্‌রোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল শিশুদের শারীরিক কার্যকলাপ কমায় না, ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটায়। এই দু'টি কারণই কিন্তু ছোটদের হার্টের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে। ভারতে প্রায় ৬০ লক্ষ শিশু অতিরিক্ত ওজন জনিত সমস্যায় ভুগছে। যাদের মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষকে 'ওবেস' বা অতিরিক্ত ওজন সম্পন্ন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মোবাইল ফোন আর টিভির প্রতি আসক্তির কারণে শিশুরা এখন আর বাইরে খেলতে যেতে চায় না। বাড়িতে এক জায়গায় দীর্ঘ ক্ষণ বসে তারা গেম খেলছে সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়াও করছে। এর ফলেই বাড়ছে ওজন, যা সরাসরি হার্টের উপর প্রভাব ফেলছে। শিশুদের খেলার সময় শ্বাসকষ্ট, বুকে অস্বস্তি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলিকে বাবা-মায়ের উপেক্ষা করা উচিত নয়। এ রকম কোনও উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Heart Attack
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy