টেবিলের উপরে কেক সাজিয়ে বসেছিলেন বাবা। মোমবাতিগুলি আর জ্বালানো হয়নি। বিবাহবার্ষিকীর কেক আর কাটা হয়নি কমল ধ্যানির বাবা-মায়ের। বদলে সেই রাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে খোঁজ করেছেন পুত্রের। তার পর ছুটেছেন একের পর এক থানায়। তখনও জানতেন না, আর কোনও দিন ঘরে ফিরবেন না ২৫ বছরের পুত্র।
কমল একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজার। শুক্রবার রাত ১২টা ৫০ নাগাদ নিজের যমজ ভাই কর্ণকে ফোন করে জানান, ১৫ মিনিটেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। সেই শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। কর্ণ বলেন, ‘‘কমল ফোন করে মাকে রুটি করতে বলেছিল। জানিয়েছিল, বাড়ি ফিরছে। কেক নিয়ে আমরা ওর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’’
এর পরে আধ ঘণ্টা কেটে গেলেও কমল বাড়ি ফেরেননি। ফোন করেও সাড়া পায়নি পরিবার। শনিবার সকালে কমলের দেহ উদ্ধার হয়। ১৫ ফুট গভীর গর্তে পড়েছিল তাঁর দেহ। তখনও মাথায় ছিল হেলমেট। দিল্লির জনকপুরীতে পাইপলাইনের কাজের জন্য সেই গর্ত খনন করেছিল দিল্লি জল বোর্ড। বাড়ি ফেরার সময় সেই গর্তে পড়ে যান কমল।
মৃতের বন্ধু ময়ঙ্ক জানিয়েছেন, চাকরি করে নিজের সঞ্চয়ের টাকায় ২০২৪ সালে বাইকটি কিনেছিলেন কমল। সেটি তাঁর প্রাণ ছিল। যেখানেই যেতেন, সওয়ার হতেন বাইকে। ময়ঙ্কের কথায়, ‘‘নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য কঠিন পরিশ্রম করত কমল।’’
আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে দিল্লির বিজেপি সরকার। রাস্তার মাঝে অত বড় গর্ত করার পরে সেটিকে ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদি গর্তটি থেকে পথচারীদের দূরে রাখার মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হত, তা হলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটত না বলে বিরোধী দল আপের দাবি।
গত ১৬ জানুয়ারি নয়ডায় ২৭ বছর বয়সি এক সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল প্রায় একই রকমের দুর্ঘটনায়। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ একটি নির্মীয়মাণ কাঠামোর পাশে রাস্তার বাঁকের মুখে একটি গভীর গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। তাতে জলও জমেছিল। যুবরাজ মেহতা নামে ওই যুবক গাড়ি নিয়ে সেই গর্তে পড়ে যান। তাঁর মৃত্যু হয়।