পূর্বসূরি বারাক ওবামাকে নিয়ে বর্ণবিদ্বেষী ভিডিয়ো পোস্ট করার অভিযোগ উঠল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে (আমেরিকার সময় অনুসারে) তাঁর সমাজমাধ্যম থেকে ওই বিতর্কিত ভিডিয়ো পোস্ট করা হলেও তিনি ওই ‘ভুল’ করেননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাই বিতর্ক এবং সমালোচনা সত্ত্বেও ক্ষমা চাইতে রাজি হননি তিনি। উল্টে হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এক কর্মী ওই পোস্ট করে ফেলেছিলেন!
বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টিকে তোপ দেগে সমাজমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট করে যাচ্ছিলেন ট্রাম্প। ওই পোস্টগুলির মধ্যে একটিতে ছিল ৬২ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োটি। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, জঙ্গলে দু’টি শিম্পাজি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে ওই দুই প্রাণীর মুখে বসিয়ে দেওয়া হয় ওবামা এবং তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামার মুখ। যদিও শুক্রবার দুপুরে ভিডিয়োটি হঠাৎই মুছে ফেলা হয়েছে।
ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট হতেই শোরগোল শুরু হয়। ডেমোক্র্যাটরা তো বটেই, ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের একাংশও এর বিরোধিতায় সরব হন। ওবামা দম্পতি অবশ্য এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। ট্রাম্প এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমি কোনও ভুল করিনি।”
হোয়াইট হাউসের তরফে এই ভিডিয়ো পোস্ট করার দায় এক কর্মীর উপর চাপানো হলেও বিতর্কে অবশ্য দাঁড়ি পড়েনি। মার্কিন নাগরিকদের একাংশের বক্তব্য, কোনও দেশের উপর শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত হোক, কিংবা সামরিক অভিযানের ঘোষণা— নিজের নাম লিখে সমাজমাধ্যমে এই সংক্রান্ত ঘোষণা করে থাকেন ট্রাম্প। তার পরেও হোয়াইট হাউসের এক জনের কর্মী কী ভাবে প্রেসিডেন্টের সমাজমাধ্যম থেকে ওই ধরনের ভিডিয়ো পোস্ট করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এর আগেও একাধিক বার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে নিশানা করেছেন ট্রাম্প। ওবামা সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করারও অভিযোগ উঠেছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত ওবামাই আমেরিকার একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকেরা ফেব্রুয়ারি মাসটিকে ‘ব্ল্যাক হিস্ট্রি মান্থ’ হিসাবে পালন করে থাকেন। সম্প্রতি আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের অবদানের কথা জানিয়ে একটি ঘোষণাপত্র জারি করা হয়েছিল ট্রাম্পের নামে। তার পরেই এই বর্ণবিদ্বেষী ভিডিয়ো পোস্ট করার ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।