বিভিন্ন দেশের ১৪টি তেলবাহী জাহাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা। মার্কিন কোপের মুখে পড়েছে ভারত-সহ আটটি দেশের মোট ১৫টি সংস্থাও। ইরানের তেল পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
শুক্রবার ওমানে ইরান-আমেরিকার সমঝোতা বৈঠক ছিল। পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে দুই দেশের আধিকারিকদের মধ্যে। তার পরেই আমেরিকার বিদেশ দফতর একটি বিবৃতি জারি করে ইরানের তেল পরিবহণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে। তালিকায় রয়েছে চিন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশের জাহাজ এবং বিভিন্ন সংস্থাও। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘তেহরান সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে উৎসাহ দিতে এবং নাগরিকদের দমিয়ে রাখতে যে রাজস্বের আয় কাজে লাগায়, তা বন্ধ করতে আমরা একাধিক জাহাজ, সংস্থা এবং ব্যক্তিবিশেষের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছি। ইরানের পেট্রোলিয়াম, পেট্রোপণ্য এবং পেট্রোরাসায়নিক পণ্য পরিবহণকারী হিসাবে আমরা ১৪টি জাহাজকে চিহ্নিত করেছি। এ ছা়ড়া, ১৫টি সংস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে ইরানের তেল, পেট্রোপণ্যের ক্রেতা হিসাবে। তালিকায় রয়েছেন দু’জন ব্যক্তিও।’’
আরও পড়ুন:
-
ঢুকতেই বাধা, নিরাপত্তারক্ষীদের হাত ছাড়িয়ে ছুটে যায় ‘কবচ’ পরা জঙ্গি, মুহূর্তে বিস্ফোরণ! কী ঘটেছিল ইসলামাবাদের মসজিদে
-
মসজিদে আত্মঘাতী হামলাকারীর যাতায়াত ছিল আফগানিস্তানে? ফের ভারতের দিকে আঙুল পাক মন্ত্রীর, কঠোর বিবৃতি দিল দিল্লি
-
অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা ঘোষণার পরেই ভারতের মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের! পাকিস্তান আর চিনকে বার্তা দিতেই কি পদক্ষেপ
আমেরিকার অভিযোগ, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে ইরানের সরকার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির দিকে নজর দেয় বার বার। ইরানকে দুর্বল করতে আগামী দিনেও এই ধরনের পদক্ষেপ করে যাবে বলে জানিয়েছে তারা। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বারবাডোসের একাধিক সংস্থা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একাধিক সংস্থা, ওশিয়ানিয়ার মার্শাল আইল্যান্ডের সংস্থা, চিনের সংস্থা, পূর্ব আফ্রিকার সিচেল্সের সংস্থা, কাজ়াখস্তানের সংস্থা, তুরস্কের একাধিক সংস্থা এবং ভারতের একটি সংস্থা।
মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, এলেভেট মেরিন ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড ভারতের সেই সংস্থা, যা একটি ক্যামেরুনের তেল পরিবহণকারী জাহাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। জাহাজটির নাম বেনেডিক্ট। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে অন্তত তিন বার এই জাহাজ ইরানের তেল পরিবহণ করেছে। এই সংস্থার মালিক আকাশ অনন্ত শিন্ডের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক।
ওমানে ইরান-আমেরিকার সমঝোতা-আলোচনা কেমন হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তবে তার পরেই আমেরিকার এই ধরনের ঘোষণা বৈঠক সম্পর্কেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈঠকে সমস্যার ইতিবাচক কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।