E-Paper

নীরবেই নির্বাচনের ঘুঁটি সাজিয়ে চলেছে জামাত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামাত একক ভাবে ২২৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ভোট প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল তারা। ১৬২টি আসন চিহ্নিত করে জয়ের জন্য ঝাঁপিয়েছে জামাত।

অনির্বাণ দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩১
শফিকুর রহমান।

শফিকুর রহমান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আওয়ামী লীগহীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-কে টক্কর দিতে চলেছে জামায়াতে ইসলামী। প্রচার পর্বে নীরবে তারা বাকি রাজনৈতিক দলগুলিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাঁদের একটা বড় অংশের দাবি, ভোট-যুদ্ধে পেশি শক্তি এবং অর্থশক্তি ব্যবহারে জামাত বাকিদের থেকে কিছুমাত্র কম নয়। সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন চিহ্নিত করে, সেগুলিতে জয় নিশ্চিত করতে ঝাঁপিয়েছে তারা। জামাত-বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের দিন বুথ জ্যাম বা ভুয়ো ভোটার নিয়ে আসতেও চেষ্টার কসুর করবে না তারা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামাত একক ভাবে ২২৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ভোট প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল তারা। ১৬২টি আসন চিহ্নিত করে জয়ের জন্য ঝাঁপিয়েছে জামাত। তাদের পুরুষ ও মহিলা কর্মীরা সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁরা গরিব ও সাধারণ ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করছেন। অন্য দলগুলির অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করে নিজেদের দিকে ভোট করাতেই এ ভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে রাজনীতি নিয়ে চর্চা করেন এমন এক অধ্যাপকের কথায়, ‘‘শোনা যাচ্ছে, জামাত নাকি ১৬২–১৮৮টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আসনে প্রচারের জন্য ব্যাপক টাকা খরচ করেছে। প্রতি আসনে প্রায় ৫০–১০০ কোটি টাকা। শরিক দলগুলির প্রচার খরচের বড় অংশও বহন করছে।’’

নির্বাচনে ইতিবাচক ফলের লক্ষ্যে সাংগঠনিক ভাবে প্রস্তুতি জোরদার করে ময়দানে নেমেছে জামাত। জামাত-বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের দিন ভোর থেকেই বিপুল সংখ্যায় জামাত কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়তে পারেন। যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মন্থর হয়, বিএনপি সমর্থকেরা ভোট দিতে না পারেন।

বাংলাদেশে পালাবদলের পর থেকে জামাত যেমন নীরবে সংগঠন মজবুত করেছে, তেমনই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে তাদের সমমনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের বসাতে সক্ষম হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আনসার–ভিডিপি সদস্যরাই। অনেকের অভিযোগ, প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত ১৫ জন জামায়াত–শিবির কর্মীকে নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখার বিষয়টি কৌশলগত ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশের ডিসি, এসপি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি পদোন্নতিতে জামাতপন্থীদের উপস্থিতির কথাও শোনা যাচ্ছে। আরও অভিযোগ, জামাত স্কুল কমিটিগুলিতে প্রথম থেকেই নিজেদের লোক ঢুকিয়েছে। কারণ, যে সব স্কুলে ভোটকেন্দ্র হয়, সেগুলি স্কুল কমিটির নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে তারা ওই স্কুল থেকে নিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসার ও অন্যান্য পোলিং এজেন্টের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে পারে বলে অভিযোগ। সেনা অফিসার ও সদস্যদের একটি বড় অংশের মধ্যে জামাতের প্রভাব আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সেনাবাহিনীর যশোর ও রংপুর ডিভিশনের জিওসি সাধারণ ভোটারদের জামাতকে ভোট দিতে বলেছেন। একই অভিযোগ খুলনার সংখ্যালঘু গ্রামগুলিতেও উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশের এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বক্তব্য, ‘‘এই ভোটকে পাখির চোখ করে বহু দিন থেকেই ঘুঁটি সাজিয়েছে জামাত। বিএনপি যখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপরে হামলায় ব্যস্ত, জামাত তখন নিঃশব্দে কাজ সেরেছে। লীগের ৩০-৩৫ শতাংশ ভোটদাতার ১০ শতাংশও যদি ভোট দিতে যান, তা হলে বেশির ভাগ যেতে পারে জামাতের দিকে। আর তাতেই বিএনপি-র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে জামাত।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

jamaat e islami Bangladesh Situation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy