বারান্দায় বা ছাদে বাগান করেছেন? রংবেরঙের ফুলগাছ, পাতাবাহার শোভা পাচ্ছে ঘরের বাগানে। কিন্তু যতই যত্ন নিন, সেখানে পোকামাকড়ের আনাগোনা থাকবেই। টবের মাটি, গাছের পাতা, ফুলের গন্ধ আর জমে থাকা জল পিঁপড়ে, ছোট মাছি, পোকা, এমনকি মাকড়সাকেও আকর্ষণ করে। বিশেষ করে কোণ, রেলিংয়ের ফাঁক বা টবের নীচে মাকড়সার জাল দেখা যায়। অনেকেই গাছের ক্ষতির ভয়ে রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করতে চান না। তাই ঘরোয়া উপায় হিসেবে ভিনিগার ব্যবহার করা হয়।
ভিনিগারের তীব্র গন্ধ আর ঝাঁজ অনেক পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না। পিঁপড়ে, ছোট পোকা আর মাকড়সা সাধারণত এমন জায়গা এড়িয়ে চলে। এই কারণে বারান্দার বাগান বা ছাদের বাগানে নির্দিষ্ট জায়গায় ভিনিগার ব্যবহার করলে কিছু সময়ের জন্য পোকামাকড়ের উপস্থিতি কমতে পারে।
ভিনিগার স্প্রে তৈরি করা খুবই সহজ। সমপরিমাণে সাদা ভিনিগার আর জল একটি স্প্রে বোতলে মিশিয়ে নিতে হয়। গাছের উপরে নয়, বরং টবের বাইরের অংশ, টবের নীচে, বারান্দার মেঝের কোণ, দেওয়ালের ফাঁক, রেলিং আর যে সব জায়গায় পোকা বা মাকড়সার চলাচল বেশি দেখা যায়, সেখানে ছিটিয়ে দিতে হবে।
মাকড়সা সাধারণত শান্ত জায়গা খোঁজে। সে সমস্ত জায়গায় তারা জাল বোনে। ভিনিগারের গন্ধে মাকড়সা সেই জায়গায় থাকতে চাইবে না এবং পিঁপড়ের চলার পথে স্প্রে করলে তাদের সারিও ভেঙে যাবে।
আরও পড়ুন:
তবে মনে রাখতে হবে, ভিনিগার গাছের জন্য ক্ষতিকর। সরাসরি পাতায়, কচি ডালে বা মাটিতে ভিনিগার পড়লে গাছ পুড়ে যেতে পারে, পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে। তাই ভিনিগার কখনও গাছের উপর ব্যবহার করা উচিত নয়।
আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। বারান্দা বা ছাদের বাগানে রোদ, বাতাস আর বৃষ্টির কারণে ভিনিগারের গন্ধ দ্রুত উবে যেতে পারে। ফলে এটি কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। কয়েক দিন পর পর আবার স্প্রে করতে হতে পারে। তা ছাড়া, সব ধরনের পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে ভিনিগার সমান ভাবে কাজ করে না। কিছু কিছু পোকা গন্ধের জন্য আসে না, জমে থাকা জল আর আশ্রয়ের খোঁজেও আসে।
তাই ভিনিগার ব্যবহার করার সঙ্গে সঙ্গে বাগান পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। টবের নীচে জল জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। শুকনো পাতা, পচা ফুল নিয়মিত সরাতে হবে। জল দেওয়ার পর অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাচ্ছে কি না, তা-ও দেখতে হবে। এতে পোকামাকড় আর মাকড়সার আস্তানা তৈরি হওয়ার সুযোগ কমবে।