প্রকৃতি যেন ক্যানভাস। সেই ক্যানভাসের ছবি বদলে যায় ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে। কখনও তা হয় ঘন সবুজ, কখনও রুক্ষ। তেমনই রং বদল হয় পাতারও। এমন অনেক গাছ আছে যার পাতা শুধু সবুজ থাকে না, বরং মরসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে তার বর্ণও বদলায়। আবার সূর্যালোক যত তীব্র হয় ততই পাতার রঙের অদল-বদলে চোখে পড়ে। এমন কোন পাতাবাহার গাছ আছে, যেগুলি রাখতে পারেন আপনার বাগিচায়?
ক্লোরোফিলের উপস্থিতির কারণে পাতার রঙ সবুজ হয়, যা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ক্লোরোফিলের উৎপাদন কমে যায়। তখন পাতায় লুকিয়ে থাকা অন্যান্য রঞ্জক পদার্থ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ক্যারোটিন, অ্যান্থোসায়ানিনের মতো উপাদানগুলি পাতায় রং বদলের নেপথ্য কারিগর হয়ে ওঠে।
ক্রোটন: ক্রোটনের পাতা কখনও সবুজ, কখনও তাতে লাগে হলুদ এবং লালচে আভা। গাছটি রঙ বদলায় মূলত আলোর তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে। যখন ক্রোটন গাছ প্রচুর সূর্যালোক পায়, তখন পাতা অ্যান্থোসায়ানিন তৈরি করে। এতে পাতা উজ্জ্বল লাল, গোলাপি রঙের হয়ে ওঠে। আলোর মাত্রা কমলে সেটির রং কিছুটা কমে যায়। গাছটি ছায়ায় রাখলে সালোকসংশ্লেষ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ক্লোরোফিল তৈরি করতে বাধ্য হয়। এর ফলে লাল বা হলুদ রঙ হারিয়ে পাতা আস্তে আস্তে গাঢ় সবুজ হয়ে যায়। ক্রোটনের পাতা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙ পরিবর্তন করে। সাধারণত নতুন পাতাগুলো সবুজ বা হালকা হলুদ হয়ে জন্মায়। পরে তাতে লাল আভা দেখা দেয়।
ক্যালাডিয়াম: কিছুটা হৃদয় আকৃতির পাতা হয় ক্যালাডিয়ামের। সবুজের বদলে এই পাতায় গোলাপি, লাল নানা রঙের বৈচিত্র দেখা যায়। মূলত গ্রীষ্মকালেই পাতার বাহার বাড়ে। শীতে পাতার ঔজ্জ্বল্য কমে। গাছটি ছোট অবস্থায় এক রকম থাকে, যতই সেটি বড় হয়, পাতার আকার বাড়ে এবং তা রঙিন হয়ে ওঠে।
প্রেয়ার প্ল্যান্ট: এটিও পাতাবাহার গাছ। ছোট অবস্থায় পাতা সবুজ থাকে। কিন্তু যত দিন যায়, পাতা প্রসারিত হয় এবং রঙ খোলতাই হয়। সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে এর পাতা লালচে বা বেগনি হয়ে ওঠে। আবার কম আলোয় তা সবুজ হয়ে যায়।