শীত প্রায় শেষের মুখে। ডালিয়া-চন্দ্রমল্লিকার মরসুম শেষ। বসন্ত এবং গ্রীষ্মের জন্য বাগিচা সাজাতে হলে, এখন থেকেই ভাবতে হবে গাছগাছালি নিয়ে। নতুন করে রঙিন ফুল পেতে হলে বীজ ছড়ানো বা চারা তৈরির এটাই আদর্শ সময়। কিন্তু এমন মরসুমে কোন ফুলের গাছ বসাবেন, তার জন্য মাটি কেমন ভাবে তৈরি করবেন?
সূর্যমুখী: বাগান আলো করে থাকবে সূর্যমুখী। ছোট এবং বড় ফুলের গাছ বসানো যায়। যেমন ফুলের দরকার, সেই মতো ভাল জাতের চারা কিনতে হবে। মূলত উপযুক্ত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থাযুক্ত দোঁআশ মাটি ভাল। তবে বেলে-দোআঁশ মিশিয়েও চাষ হতে পারে। মাটি তৈরির সময় কিছুটা জৈব সার, কোকোপিট সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। মাঝারি মানের উর্বর মাটিতেও এই ফুলগাছ দিব্যি বেড়ে উঠবে। গাছ বড় হওয়ার জন্য ৬ ঘণ্টা সূর্যালোকের দরকার। চারা অবস্থায় গাছ হালকা ছায়ায় রাখুন। জল দিতে হবে বুঝে,পরিমাণ মতো। গোড়ায় তা জমে গেলেই বিপদ। চারা বসানোর ৭০-৯০ দিনের মাথায় ফুল ফোটা শুরু হয়।
প্যানজ়ি:বসন্তের বাগিচার বাহার বাড়িয়ে দিতে পারে লাল, হলুদ, নীল রঙের উজ্জ্বল প্যানজ়ি। রঙিন ফুলে হলুদ, সাদার ছিটে। দেখলে মনে হবে, বাগানে যেন ঝাঁকে ঝাঁকে প্রজাপতি এসে বসেছে। সাধারণ মাটি, কোকোপিট এবং ভার্মি কম্পোস্ট বা গোবর সার মিশিয়ে এই গাছের মাটি তৈরি করতে হবে। তার সঙ্গে যোগ করতে হবে কিছুটা বালি। বালি থাকলে গাছের গোড়ায় সহজে জল জমবে না। গাছ বেড়ে ওঠার সময় জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের জন্য অন্তত ছ’ঘণ্টার সূর্যালোক প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
জিনিয়া: বাগানের শোভা বাড়াতে বেছে নেওয়া যায় নানা রকমের জিনিয়া। বীজ কিনে আনলে তা প্রথমে ছোট টব বা গামলায় মাটি ও কোকোপিট ভরে তাতে পুঁতে দিন। অল্প অল্প করে জল দিতে হবে রোজ। এক-দু’সপ্তাহ পর চারা গাছ বেরোলে মাটি সমেত সেটা তুলে বড় টবে রাখতে হবে। কোকোপিট যুক্ত মাটি এই গাছের জন্য ভাল। জিনিয়া গাছ বড় হওয়ার চার থেকে ছ’ঘণ্টা রোদে রাখতেই হবে। গরমের ফুল বলে রোজ জল দিতে হবে। মাটি যেন ভিজে থাকে। তবে গাছের গোড়ায় যেন জল জমলে ক্ষতি। গাছে ফুল ধরতে ৪০-৭০ দিনের মতো সময় লাগে।