Advertisement
E-Paper

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদীর ফোনালাপই কি অনুঘটক? আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি ‘চূড়ান্ত’ হতেই শুরু জল্পনা

ট্রাম্পের ঘোষণায় আমেরিকার সঙ্গে রয়ে গিয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার নাম। আর তার পরেই এই ঘোষণার সময়কাল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অনেকের। তাঁদের মনে পড়ে গিয়েছে, চার দিন আগে ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৯
(বাঁ দিকে) ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি ‘চূড়ান্ত’ ঘোষণা হওয়ার দিন কয়েক আগেই ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কূটনৈতিক কথাবার্তাই কি অনুঘটকের কাজ করল এই চুক্তিতে? তার জেরেই কি ভারতীয় পণ্যের উপরে শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত ১২ মাসে টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্ক। তার অন্যতম কারণ, শুল্কের খাঁড়া। সেই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বার বার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। কারণ, আমেরিকার আপত্তির জায়গা ছিল, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল ক্রয়। সেই বার বার সরব হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করলে ভারতীয় পণ্যে চাপানো শুল্ক কমানো হবে। আমেরিকা এবং ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আরও বেশি করে তেল কেনার কথাও বলে।

ঠিক এই আবহেই গত ৩০ জানুয়ারি ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সে কথা নিজেই জানান সমাজমাধ্যমে। তিনি লেখেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। তার পরেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। তবে কি ট্রাম্পের শর্তেই রাজি হচ্ছে ভারত। কারণ, ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরে দাবি করছিলেন, ভারত রাশিয়া থেকে আর তেল কিনবে না। যে দিন ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদীর কথা হয়, তার পরের দিন, ৩১ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান নয়, ভারত এ বার তেল কিনবে ভেনেজ়ুয়েলার থেকে। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার মতো ইরানের থেকেও অপরিশোধিত তেল কেনে ভারত। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যেই চুক্তির বিষয়ে একটা ধারণা করে ফেলেছি।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই মন্তব্যের পরেই শুরু হয়ে গিয়েছিল জল্পনা। যদিও ভারত তখন কোনও মন্তব্য করেনি।

ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেও তাদের থেকে তেল কিনে গিয়েছে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সেই পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দিল্লি স্পষ্টই জানায়, দেশে শক্তির জোগান সুরক্ষিত করতে এবং দামে ভারসাম্য রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি। অন্য দিকে, ট্রাম্পের প্রশাসন ছিল নাছোড়। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হবে না। ভারতীয় পণ্যের উপরে শুল্ক কমানোও হবে না। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে চলেছে, রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করবে ভারত। ভেনেজ়ুয়েলার পালাবদলের পরে তারা শর্ত দেয়, আমেরিকার পাশাপাশি সে দেশ থেকে তেল কিনতে হবে।

এর পরেই চার দিন আগে ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হয় মোদীর। তার পরেই মোদীর সঙ্গে ফোনালাপের পরে সোমবার ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেন। ভারতীয় পণ্য শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি এ-ও দাবি করেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ভারত। বদলে আমেরিকা এবং ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তেল কিনবে তারা। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘‘তিনি (মোদী) রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। আমেরিকার কাছ থেকে আরও অনেক বেশি তেল কিনবে ভারত। সম্ভবত ভেনেজ়ুয়েলার কাছ থেকেও ভারত বেশি করে তেল কিনবে।” ট্রাম্প জানান, এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইতি পড়তে পারে।

রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর চাপানো ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে বিষয়ে তখন স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলে সেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। ভারতীয় পণ্যের উপরে চূড়ান্ত ১৮ শতাংশ শুল্ক থাকবে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর পরই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীও। শুল্ক কমানোর জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা বন্ধ করে ‌দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মোদী। যেমন মন্তব্য করেননি ট্রাম্পের দাবি মতো আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কেনা নিয়েও।

ট্রাম্পের ঘোষণায় আমেরিকার সঙ্গে রয়ে গিয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার নাম। আর তার পরেই এই ঘোষণার সময়কাল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অনেকের। তাঁদের মনে পড়ে গিয়েছে, চার দিন আগে ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ। তার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেন, এই দুই ঘটনার মধ্যে কি রয়েছে গিয়ে কার্য-কারণ সম্পর্ক?

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, রাশিয়া থেকে যে অপরিশোধিত তেল ভারত কেনে, ভেনেজ়ুয়েলার অপরিশোধিত তেলও প্রায় একই রকম। ভারত মুখে কিছু না বললেও এ বার কি ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে ভারত? বিকল্প হবে ভেনেজ়ুয়েলাই?

India US Tariff Row venezuela
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy