E-Paper

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিএনপি, জামাতের ইস্তাহারে ভারত

বিএনপি বা জামায়েতের ইস্তেহারে আশাপ্রদ কথা থাকলেও জীবন-জীবিকা-সম্পদ ও সম্ভ্রম নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটছে না বলে জানাচ্ছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৬

—প্রতীকী চিত্র।

যে দলকে নিয়ে নয়াদিল্লির দুশ্চিন্তা রয়েছে সেই জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের নামগন্ধও নেই তাতে। অন্য দিকে বিএনপি আজ তাদের ইস্তাহারে দুর্নীতি দমন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিল। বিএনপি-র বক্তব্য, দুর্নীতির বিষয়ে কোনও সমঝোতা নয়। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপি নির্বাচনী ইস্তাহারকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছে। রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতি। এর মধ্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারকে আবার পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র ও জাতিগঠন; মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান; সাংবিধানিক সংস্কার; সুশাসন এবং স্থানীয় সরকার। সব মিলিয়ে বিএনপি মূলত বিগত সময়ে তাদের ঘোষিত ৩১ দফাকেই সামনে আনছে বলে জানাচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।

তারেকের কথায়, “বিএনপি যখন ৩১ দফা দেয়, জুলাই সনদের বিষয়টি তখন ছিল না। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন জরুরি। জুলাই সনদের অনেক কিছুর সাথে ৩১ দফার মিল আছে।” ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে এবং ‘ফ্যাসিস্ট আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সুবিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে ইস্তাহারে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তারেকের বক্তব্য, “আমরা দেখেছি, একে কী ভাবে একটি পরিবারের বা দলের সম্পত্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে হয়েছে। তাই নিরপেক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংগ্রহ করা প্রয়োজন।”

বিএনপি বা জামায়েতের ইস্তেহারে আশাপ্রদ কথা থাকলেও জীবন-জীবিকা-সম্পদ ও সম্ভ্রম নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটছে না বলে জানাচ্ছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরিষদ আরও বলছে, এই উদ্বেগ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরুৎসাহিত করতে পারে। সম্প্রতি তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিরুৎসাহের দায় নিতে হবে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশন-সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃঢ় ভূমিকা দাবি করা হয়েছে।

পরিষদের বক্তব্য, ‘নির্বাচনের আর নামমাত্র দিন বাকি। এখনও গত বছরের মতো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ১১টি।’ পরিষদ আরও বলেছে, ‘ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীরা প্রতিনিয়ত ভীতি এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদ স্থান খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bangladesh Election Bangladesh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy