পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের মসজিদে শুক্রবার আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়েছে। তাতে ফের আফগানিস্তান এবং ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে পড়শি দেশ। সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেছেন, আত্মঘাতী জঙ্গির আফগানিস্তানে যাতায়াত ছিল। এমনকি, এই বিস্ফোরণে ভারতের হাতও রয়েছে বলে তাঁর দাবি। শুক্রবার রাতেই এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের দাবি উড়িয়ে সে দেশের সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।
পাক মন্ত্রী দাবি করেছিলেন, আত্মঘাতী জঙ্গি আফগনিস্তান থেকে একাধিক বার পাকিস্তানে যাতায়াত করেছিল। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘ভারত এবং তালিবানের মধ্যে যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসছে। ওই জঙ্গিকে নিরাপত্তারক্ষী বাধা দিয়েছিলেন। তখনই তিনি গুলি চালাতে শুরু করেন এবং মসজিদে প্রার্থনাকারীদের শেষ লাইনে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরণ ঘটান।’’ এর পরেই ভারতকে নিশানা করে আসিফের দাবি, পাকিস্তানের কাছে হেরে গিয়ে ভারত অন্য ভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ, ভারতের নাকি সরাসরি যুদ্ধ করার ক্ষমতাই নেই।
আরও পড়ুন:
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রাতেই বিবৃতি দেন। তাতে লেখেন, ‘‘ইসলামাবাদের মসজিদে বিস্ফোরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রাণহানিতে সমবেদনা জানাচ্ছি। কিন্তু এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, পাকিস্তান এই সমস্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের মাটিতে জন্ম নেওয়া দুষ্কৃতীদের জন্য অন্যদের দোষারোপ করছে। ভারত এই ধরনের যে কোনও অভিযোগ খারিজ করছে। এগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’’
পাক মন্ত্রীর দাবি উড়িয়ে দিয়েছে আফগানিস্তানও। তাদের তালিবান সরকার এই ধরনের দাবিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে। বলা হয়েছে, উপযুক্ত তদন্ত না করে, ভাল করে খতিয়ে না দেখেই যুক্তিহীন, ভিত্তিহীন ভাবে অন্যের উপর দায় চাপাতে চাইছে পাকিস্তান। তারা এ-ও প্রশ্ন তুলেছে, যদি হামলার পরমুহূর্তেই পাকিস্তান সরকার জেনে ফেলে হামলাকারীর পরিচয় এবং গতিবিধি, তবে হামলাটি তারা কেন ঠেকাতে পারল না?
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদের ইমামবাড়া শিয়া মসজিদে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নমাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩১। তবে আহত দেড় শতাধিক। ‘সুইসাইড ভেস্ট’ পরে মসজিদে ঢুকে পড়েছিল আত্মঘাতী ওই জঙ্গি। কিছু দিন আগে বালোচিস্তানে জঙ্গি হামলার দায় ভারতের দিকে ঠেলেছিল পাকিস্তান। এ বার ইসলামাবাদের ঘটনাতেও ভারত-যোগের অভিযোগ তুলেছে। তবে বরাবরের মতো দেখাতে পারেনি কোনও প্রমাণ।