অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতায় সম্মত হয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন। তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এখন সেই মানচিত্র নিয়েই আলোচনা চলছে। মনে করা হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পরে তার প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং চিনকেই বার্তা দিতে চাইল ট্রাম্পের প্রশাসন।
বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করে ভারতের মানচিত্রের একটি ছবি দিয়েছে আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজ়েন্টেটিভের দফতর। যে আকসাই চিনকে বেজিং নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, তা-ও রয়েছে ভারতের সেই মানচিত্রে। রয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরও।
প্রসঙ্গত, ভারত সার্বভৌম রাষ্ট্র। তার ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের বৈধতা আমেরিকার সম্মতির উপর নির্ভর করে না। ভারত সর্বদাই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর এ দেশেরই অংশ।
এর আগে আমেরিকার প্রশাসন যখন ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করেছিল, তখন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করেছিল। মনে করা হয়েছিল, এ ভাবে পাকিস্তানের দাবিকেই মান্যতা দিতে চেয়েছিল আমেরিকা। এ বার বাণিজ্য-সমঝোতার পরে সেই পাকিস্তানকেই বার্তা দিল আমেরিকা, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। ভারতের আপত্তি উড়িয়ে চিন দাবি করে আকসাই চিন তাদের অংশ। এ বার তাদেরও ট্রাম্প প্রশাসন বার্তা দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার বিদেশ দফতর ভারতের যে মানচিত্র আগে প্রকাশ করেছিল, সেই নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বার্তা দিয়েছিল ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। সেই মানচিত্রে ভারতের সীমা ভুল ভাবে অঙ্কন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিল ভারত। এ বার সেই আপত্তিকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আমেরিকা।
শনিবার ভোরে (ভারতীয় সময়) যৌথ বিবৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতার কথা জানিয়েছে ভারত এবং আমেরিকা। অন্তর্বর্তী এই বাণিজ্য-সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যে আমদানি শুল্কের পরিমাণ কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে। এর ফলে ভারতের বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক, গৃহসজ্জা, রাসায়নিক শিল্পের জন্য আমেরিকার দরজা খুলে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বেশ কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর কোনও শুল্ক চাপাবে না ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার বেশ কিছু পণ্যের (কৃষিপণ্য-সহ) জন্য ভারত আমদানি শুল্কের পরিমাণ কমাচ্ছে কিংবা তা পুরোপুরি তুলে নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পশুখাদ্য, প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ইত্যাদি।